অনুমতিবিহীন ক্যাম্পাস এবং শাখা চালাচ্ছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

  • অনলাইন
  • শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১০:৪৭:০০
  • কপি লিঙ্ক

রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নামকরা প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই চালাচ্ছে অনুমতিবিহীন ক্যাম্পাস এবং শাখা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে খোদ রাজধানীতে ভিকারুননিসা নূন, মতিঝিলের আইডিয়াল, খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল আইডিয়াল, মিরপুরের মনিপুর, উত্তরার মাইলস্টোন, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার, টাঙ্গাইল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান অননুমোদিত শাখা-ক্যাম্পাস খুলে ভর্তি করছে শত শত শিক্ষার্থী।

সরকারি এমপিও নিতে হয় না বলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়মনীতি মেনে নিয়োগ করা হয়না শিক্ষক ও কর্মচারী। পরে তাদেরও বেতন-ভাতা দেয়ার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় গলাকাটা ফি। ওইসব ফি কোন খাতে ব্যয় হয় আর কোথায় যায় তা নিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরীক্ষা হয় না। ভর্তি, প্রশাসনিক ও আর্থিক খাত নিয়ে আছে স্বচ্ছতার ঘাটতি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, বোর্ডের আইন অনুযায়ী ক্যাম্পাস বা শাখা খোলার কোনো বিধান নেই। সেই হিসেবে যারাই ক্যাম্পাস খুলেছেন তারা অবৈধ কাজ করেছে। শিক্ষার্থী বেশি হলে শ্রেণি (একই ভবনে) খোলা যাবে। তবে সেটার অনুমোদন নিতে হবে।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ নিয়ে করা সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, সরকারের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামাফিক শত শত শ্রেণি ও শাখা খুলে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে। অনুমোদনহীন এসব শাখা-ক্যাম্পাস খোলার মূল উদ্দেশ্য থাকে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং শিক্ষার্থী ভর্তি বাণিজ্য। এতে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা উপকৃত হচ্ছেন না। বরং এসব অবৈধ শাখায় শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার জন্য মাসে মাসে অতিরিক্ত টিউশন ফি গুনতে হচ্ছে। করোনাকালে অভিভাবকের ওপর ফির খড়গ নেমে আসার অন্যতম কারণ এ অবৈধ শাখা-ক্যাম্পাস। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সন্নিকটেই নামকরা প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের কার্যকলাপ বছরের পর বছর কিভাবে চলছে তা রহস্যজনক।

অবশ্য ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, অবৈধ শাখা-ক্যাম্পাস সরকারের নজরে আছে। ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শোকজ পাঠিয়েছি। এছাড়া সরেজমিন তদন্ত ও পরিদর্শন চলছে।

আরও বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চেইনশপের মতো একই নামে স্কুল-কলেজের শাখা খুলে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। টাঙ্গাইলের শাহিন স্কুল ও কলেজ এবং ঢাকার ক্যামব্রিয়ান অন্যতম। টাঙ্গাইল স্কুল ও কলেজ একটির অনুমতি নিয়ে ৫টি স্কুল শাখা খুলে বসেছে। বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে তদন্ত চালায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এর ভিত্তিতে পরে শোকজ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য