করোনা ভাইরাস সৃষ্ট দুর্যোগে কর্ম হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছে মানবতার জন্য আমরা ফাউন্ডেশন।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর টিএনটি বয়েজ স্কুল মাঠে এ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। ৩৫০ জনের উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল, ৪ কেজি মিনিকেট চাল, এক প্যাকেট সেমাই, ১০০ গ্রাম কিসমিস, ১০০ গ্রাম গুড়া দুধ, আধা কেজি চিনি ও আধা লিটার সয়ায়বিন তেল বিতরণ করা হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাহথিম হাসান বলেন, আমরা স্কুল আর কলেজ বন্ধুরা মিলে এই ফাউন্ডেশন টি তৈরি করেছি। এখন আমরা ছোট পরিসরে কাজ করছি। এই ফাউন্ডেশন নিয়ে আমাদের অনেক বড় পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা সারা বাংলাদেশে কাজ করতে চাই।
ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মনজিল ইসলাম পাভেল বলেন, দিন মজুর যারা একদিন ঘর থেকে বের না হলে তাদের খাবার জুটবে না। তাই দেশের এই পরিস্থিতিতে আমরা মানুষের জন্য কিছু করার চেস্টা করেছি মাত্র। ঢাকা শহরের সব থেকে ঝুকিপূর্ণ এলাকা হচ্ছে এখন মহাখালী। আর এখানে ২ টা বড় বড় বস্তি এলাকা আছে (কড়াইল ও সাততলা বস্তিল) তাই আমরা এখানে আপাতত কাজ করছি।
এছাড়াও আমাদের ফেইসবুক পেজে প্রতিনিয়ত খাবারের রিকয়েস্ট আসছে। আমাদের ইনকুয়েরি টিম তাদের বাসায় গিয়ে তাদের পারিবারিক অবস্থা পর্যবেক্ষন করে আমাদের জানাচ্ছে এবং আমরা ইনকুয়েরি টিমের রেজাল্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিবার গুলোর মধ্যে আমাদের সাধ্য অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করছি।
সংগঠনের সহ সভাপতি তৌফিক আহমেদ বলেন, অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে থেকে আমরা সকলে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে তাদের মুখে হাঁসি ফোটাতে আশাকরি আমরা অবশ্যই সফল হবো।
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশ সাধারণ ছুটির কবলে পড়লে লাখ লাখ শ্রমজীবি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। খাদ্য সংকটে ঢাকার বস্তিগুলোতে হাহাকার শুরু হয়। এ পরিস্থিতির শুরু থেকে মানবতার জন্য আমরা ফাউন্ডেশন রাজধানীর মহাখালী, বনানী, বাড্ডা, রামপুরাও উত্তরা এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচী পালন করে আসছে।
সংগঠনটি এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে। ৫০-৫৫ জন শিক্ষার্থী ও কর্মজীবি নিয়ে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠনের ত্রাণ কর্মসূচীতে যে কেউ সহায়তা করতে পারেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের ফাউন্ডেশনের শাখা খুলে মানুষের সেবা করতে চাই। কিন্তু এই ছোট পরিসরে কাজ করতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যেমনঃ আমাদের নিজস্ব সেচ্ছাসেবীদের নিজেস্ব কোনো সুরক্ষা নেই। আমাদের পিপিই, মাস্ক, রেইনকোর্ট, ইউনিফর্ম ইত্যাদি আনুসাংগিক জিনিসপত্র নেই। আর এগুলো ক্রয় সুযোগ হচ্ছে না কারন আমরা যেই সামান্য টাকা সংগ্রহ করি তা দিয়ে মানুষের চাহিদা পুরন করতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের ফাউন্ডেশনের সবাই প্রায় ছাত্র।
এই জন্য সবার থেকে খুব মোটা অংকের টাকা চাদা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই জন্য আমাদের এখন একটা স্পনসর প্রয়োজন যাতে আমাদের সেচ্ছাসেবীরা নিজেদের সুরক্ষা ঠিক রেখে কাজ করতে পারে এবং আমাদের অনুদানের জন্য টাকা স্পনসর পাই তাহলে আমাদের আগামী কাজ গুলো করতে সুবিধা হবে আর আমরা আমাদের পরিকল্পনা মত দেশের সব জায়গায় আমাদের ফাউন্ডেশনের শাখা খুলে মানুষের সেবায় কাজ করতে পারবো।
বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন




.jpg)

মন্তব্য