সংবাদ প্রকাশের পর সড়কের ইট ফেরত, মধুমতির ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবি

  • কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:০৯:০০
  • কপি লিঙ্ক

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীভাঙনের গুজব ছড়িয়ে গ্রামীণ সড়কের ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগের পর সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তুলে নেওয়া ইটগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের কবল থেকে চর খোলাবাড়িয়া ও দিগনগর এলাকার বসতবাড়ি ও স্থাপনা রক্ষায় দক্ষিণ তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বুড়াইচ ইউনিয়নের চর খোলাবাড়িয়া এলাকায় সড়ক থেকে তুলে নেওয়া ইটগুলো ফেরত দেওয়া হয়। বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চর খোলাবাড়িয়া গ্রামের আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কের প্রায় ৩০০ মিটার অংশের ইট নদীভাঙনের আশঙ্কার কথা বলে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে সড়কটি খানাখন্দ ও কাদামাটিতে পরিণত হয়ে চর খোলাবাড়িয়া ও দিগনগর এলাকার মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রতন কুমার মন্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সড়কের ইট উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং ইটগুলো স্বস্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে বাবুল শেখ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগও দেন।

অভিযোগের পর গোলাম কুদ্দুসের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নানা বক্তব্য এলেও তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। স্থানীয় জামায়াতের উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাকে দলের সমর্থক এবং কোনো পদে না থাকার কথা বলা হয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।

মধুমতির ভাঙন রোধে মানববন্ধন

এদিকে মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে চর খোলাবাড়িয়া ও দিগনগর এলাকার মানুষকে রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদীভাঙনে ইতোমধ্যে বহু বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চর খোলাবাড়িয়া ও দিগনগর এলাকার আরও বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বরও এলাকাবাসী স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছিলেন।

মানববন্ধন থেকে নদীর দক্ষিণ পাশে স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, মধুমতি নদীর ভাঙন থেকে চর খোলাবাড়িয়া ও দিগনগরসহ আশপাশের জনপদ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য