ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রকল্পের কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সালামের সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার এবং নিয়মিত অফিসে আসা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করে সরকারি সেবা নিতে আসা লোকজনকে সেখানে যাওয়ার জন্য প্রভাবিত করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে সরেজমিনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে গিয়ে ডা. মো. আব্দুস সালামকে নির্ধারিত কক্ষে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় দপ্তরের বাইরে তাঁর ব্যবহৃত সরকারি মোটরসাইকেলটি পার্ক করা ছিল।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এলডিডিপি প্রকল্পটি ১ জানুয়ারি ২০১৯ সালে শুরু হয়। বিভিন্ন ধাপে মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রকল্পটির মেয়াদ ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। পরে ৩০ জুন চূড়ান্ত ইমপ্যাক্ট রিপোর্ট হস্তান্তর করা হয়।
জানা গেছে, ডা. মো. আব্দুস সালাম ২০ অক্টোবর ২০২০ সালে আলফাডাঙ্গায় এলডিডিপি প্রকল্পের প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি নিয়মিত অফিসে আসছেন এবং সরকারি মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মূল ফটকের সামনেই ‘আলফাডাঙ্গা ভেট কেয়ার প্লাস’ নামে একটি ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করছেন ডা. আব্দুস সালাম। সরকারি দপ্তরে প্রাণিসম্পদ-সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে বিভিন্নভাবে তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বারে নিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
পৌর এলাকার কুসুমদি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ আলী এবং নাওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামানসহ একাধিক সেবাগ্রহীতা বলেন, “আমরা প্রাণিসম্পদ-সংক্রান্ত সেবা নিতে সরকারি অফিসে গেলে তাঁকে ব্যক্তিগত চেম্বারে যাওয়ার কথা বলা হয়। সেখানে গেলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। এতে আমরা বিভ্রান্তিতে পড়ি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া সরকারি মোটরসাইকেল প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সরকারি যানবাহনটি কেন এখনও তাঁর কাছে রয়েছে এবং কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
@
আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রভাস চন্দ্র সেন বলেন, প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হলেও ডেইরি ফার্মারদের সমিতির নিবন্ধনসংক্রান্ত কিছু কাজ চলমান রয়েছে। ওই কাজের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন এবং অফিসে আসেন।
ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আসজাদ বলেন, সরকারি গাড়ি বা মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অফিসের কাজে ব্যবহার করতে হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রকল্প শেষ হলে সরকারি যানবাহন জমা দেওয়ার বিষয়টিও নিয়ম অনুযায়ী হওয়ার কথা। কেন এখনও জমা দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. মো. আব্দুস সালামের বক্তব্য জানতে তাঁর কক্ষে গেলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যান। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।






মন্তব্য