মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পারাপারে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। নিরাপদে চলাচলের জন্য কিছু জাহাজকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত দিতে হচ্ছে ইরানকে। এমন সংবাদ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
শিপিং বিষয়ক প্রভাবশালী মাধ্যম লর্ডস লিস্ট জানায়, একটি জাহাজ এই বিপুল অর্থ দিয়ে ইরানের কাছ থেকে নিরাপদ পারাপারের অনুমতি পেয়েছে। একই সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশ নিজেদের জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে সরাসরি তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এখন ‘সিলেক্টিভ ব্লকেড’ কৌশল নিয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়-এমন জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট শর্তে চলাচলের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), যারা নতুন একটি যাচাই ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে।
সংঘাত শুরুর আগে যেখানে নিয়মিত জাহাজ চলাচল ছিল, সেখানে এখন ট্রাফিক কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। অনেক জাহাজ বাধ্য হয়ে ইরানের লারাক দ্বীপ সংলগ্ন সরু করিডোর ব্যবহার করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইরান একদিকে যেমন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।






মন্তব্য