ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ১৫ বছরের এক কিশোরীকে বসতঘরের জানালা ভেঙে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ির পাশের একটি উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঘটনার পর বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন পলাতক রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কিশোরীর ওপর যে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাস সরদার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এলাকায় মাদকের বিস্তার রয়েছে। তার দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কয়েকজন মাদকাসক্ত। ঘটনার ১০ দিন পার হলেও প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি বাচ্চু মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার দিতে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।
ফরিদপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আল সুমন বলেন, মাদক ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। তিনি প্রধান আসামিসহ পলাতক সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ভাষাণচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কাউসার কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বলেন, এলাকার মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা জরুরি।
মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই দিবাগত রাতে ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একদল দুর্বৃত্ত গভীর রাতে বসতবাড়ির জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে তারা কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি গ্রামের পুকুরপাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—৩ নম্বর আসামি হেলাল মৃধা (২১), ৪ নম্বর আসামি রনি বেপারী (১৮) এবং ৬ নম্বর আসামি রহিত শিকদার (১৫)। স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মনির খাঁ (২৫), ২ নম্বর আসামি মিঠুন সরদার (২০), ইমন (২০) ও সোহাগ (২২) এখনও পলাতক রয়েছেন বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, “অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”






মন্তব্য