সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় লক্ষনপুর এসডিএ মিশনের পালক শংকর সরকারকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, ত্রাণ আত্মসাৎ, মিশনের সদস্যদের সাথে অসদাচরন, সুদ ব্যবসা ও মিশনের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্ট করে দিয়ে স্বার্থ উদ্ধার সহ নানান অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
এঘটনায় গ্রামের ক্ষুব্ধ একাধিক ব্যক্তি পালক শংকর’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করে এবং এবিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ঘটনার প্রেক্ষিতে এসডিএ চার্চের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা গত ২১ জুন সরজমিনে লক্ষনপুরে আসেন। এসময় সংশ্লিষ্ট পালক, অভিযোগকারী গ্রামবাসী ও মিশনের সদস্যরা সহ গ্রামের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষনপুর গ্রামের ননী গোপাল সরকার, পদ্মা দাশ, প্রেম সরকার ও নমি দাশ সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, অত্র গ্রামের এসডিএ চার্চের পালক শংকর সরকার ১০ বছর আগে পালক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে নানান অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় জড়িয়ে পড়ে। তিনি ইতোপূর্বে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এক নারীকে অপমান করে বের করে দেয় এবং অন্য এক নারীকে লাঞ্চিত করে। এছাড়া, ধীর্ঘদিন ধরে গ্রামের কতিপয় ব্যক্তিদের সাথে যোগসাজস করে চড়া সুদের ব্যবসা, ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, ত্রাণ আত্মসাৎ, কতিপয় ব্যক্তিদের দিয়ে গ্রামের এক পরিবারের সাথে অন্য পরিবারের বিরোধ বাধিয়ে দেয়া, অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার চেষ্টা সহ নানান অনৈতিক কাজে জাড়িয়ে পড়ে। আর এসব অবৈধ ও অপকর্মের প্রতিবাদ করায় সে মিশনের সদস্য নবো কুমার সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এমনকি, মিশন ও ধর্মীয় কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পালক শংকর সরকার জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে নিরিহ নবো কুমারের বিরুদ্ধে নানান চক্রান্ত ও অপপ্রচার করে। এসব ঘটনার তদন্তের জন্য ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ২১ জুন সরজমিনে আসেন এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দূর্নীতিবাজ পালক শংকর সরকারকে বদলির আদেশ দেন।
বদলি আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করে এসডিএ মিশনের এরিয়া প্রধান শ্যামল ব্যানার্জী বাংলাদেশ জমিনকে জানান, লক্ষনপুর এসডিএ মিশনে বেশ কিছু সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে যায়। তিনি বলেন, পালক শংকর সরকারকে চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গাদাহ মিশনে বদলি করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন






মন্তব্য