তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার জনজীবন এখন চরম বিপর্যস্ত। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন থাকছে এই জনপদ। লোডশেডিংয়ের এই ভয়াবহ রূপ উপজেলার সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রাকে স্থবির করে তুলেছে।
অন্ধকারে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে চলতি বছরের এসএসসিতে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি কিংবা হারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে তাদের।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানান, "পড়াশোনার যখন মূল সময়, তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়। দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনায় মন বসানো কঠিন হয়ে পড়েছে।" শুধু এসএসসি নয়, অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমও এই সংকটে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থবির ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবা খাত
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কেবল বাসাবাড়ি নয়, বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে:
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান: লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে ছোট ছোট দোকানপাট সন্ধ্যার আগেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
কম্পিউটার ও ব্যাংকিং: কম্পিউটার ভিত্তিক কাজ ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
উৎপাদন: ফ্রিজ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নির্ভর ব্যবসাগুলো লোকসানের মুখে পড়েছে।
উপজেলার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার বড় একটা অংশ বিদ্যুৎ না থাকায় এই প্রচণ্ড গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গভীর রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, যা মানুষের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই সংকট সমাধানে কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রিড বিপর্যয় বা সরবরাহ ঘাটতির কথা বলা হলেও, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কবে নাগাদ মুক্তি মিলবে এই অন্ধকার থেকে?






মন্তব্য