ফরিদপুর জেলার সদরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে ১৬ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, তাদের পায়ের মাংশ ছিঁড়ে নিয়ে গেছে। তবে বেলা ১২টার হাসপাতাল গেটে উক্ত কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। কুকুর নিধনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে।
সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ১৬ জনের আহত হওয়ার খবর নিশিচত করলেও হাসপাতালে আসা ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার সংখ্যা ৩০- ৪০ জনের মত হবে।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০ টায় উপজেলার নয় রশি, ১৪ রশি, ১৭ রশি, শ্যামপুর এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঈদের ছুটিতে অফিস বন্ধ থাকায় কুকুরটিকে নিধনের সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে, বেলা ১২টার দিকে দিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুত জামান বদু সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আহতদের দেখতে আসলে হঠাত করে ঐ পাগলা কুকুরটি হাসপাতাল গেটে উপস্থিত হয়। তখন তার (বদরুত জামান বদু) নির্দেশনা পেয়ে উপস্থিত জনতা কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। এরই মাধ্যমে এলাকায় ভয়ঙ্কর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির অবসান ঘটে। পরে বদরুত জামান বদু কুকুরটিকে মাটি চাঁপা দিতে ব্যক্তিগতভাবে স্বেচ্ছাসেবকদের অর্থ প্রদান করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা ১৪ রশি গ্রামের সাহিনুর জানান, আমার ছেলেকে ১০টার দিকে রাস্তার মোড়ে কুকুরে কামড়ায়। ৯ রশি গ্রামের সাজাহান মিয়া জানান তার ছেলেকেও কুকুরে কামড়েছে তাই হাসপাতালে এসেছি চিকিৎসা নিতে।
এর আগে হাসপাতালে জরুরী বিভাগে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শ্যামসুন্দর সাহা বলেন, এ পর্যন্ত ১৬ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আরও আসতে পারে কারণ কখন কাকে কতজনকে কামড়েছে বলা যায় না। তবে কুকুরটিকে নিধন করা হয়েছে শুনেছি। চিকিৎসা নিতে আসা প্রত্যেককেই ভ্যাকসিন, টিটি ইনজেকশন দেয়া হয়েছে, এবং পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ করে দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সদরপুর বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুত জামান বদু বলেন, সকাল থেকে কুকুরে কামড়ে আহত হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে এসেছি। কুকুরটিকে নিধন করা হয়েছে। জনমনে উদ্বেগ কমেছে। তবে এ ধরণের পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানাই।






মন্তব্য