এশিয়ান দেশগুলোর বেশিরভাগ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চীনকে বেছে নিয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউট প্রকাশিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি পরিচালিত এ জরিপে অংশ নেওয়া ৫২ শতাংশ মানুষ চীনকে বেছে নিয়েছে, বাকি ৪৮ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে। জরিপ আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এ বছর ফলাফলে বড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। গত বছরও যুক্তরাষ্ট্র এ জরিপে এগিয়ে ছিল।
জরিপে দেখা যায়, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, তিমুর-লিশত, থাইল্যান্ড ও ব্রুনেইসহ বেশ কয়েকটি দেশে চীনের প্রতি সমর্থন বেড়েছে আগের চেয়ে।
এছাড়া, জরিপে অংশ নেওয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতি সংস্থার (আসিয়ান) দেশগুলোর প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি চীন। এসব দেশের মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রেখেছেন।
অন্যদিকে, জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ বর্তমান ভূরাজনৈতিক উদ্বেগের জন্য ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অবনতি হওয়ার আশঙ্কাও করেছেন অনেকেই।
জরিপে আরও দেখা যায়, আগামী তিন বছরে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির আশা করছেন ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির সম্ভাবনা দেখছেন মাত্র ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ।
এছাড়া ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং বাণিজ্যিক পদক্ষেপ তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
গবেষণার সহলেখক ও বিশ্লেষক জোয়ান লিন বলেন, ‘এ বছরের জরিপে বোঝা যাচ্ছে যে এশিয়ার দেশগুলোতে বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ধীরে ধীরে কমছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে অঞ্চলটি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে যাচ্ছে। বরং যুক্তরাষ্ট্রর ভূমিকা নিয়ে আরও সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে।’






মন্তব্য