সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হরিশচন্দ্রকাটি গ্রামে আব্দুল জব্বার সরদারের বাড়িতে দেখা যায় পবিত্র ঈদের দিনে চুলা জ্বলেনি। নেই কোন আয়োজন। বাড়িতে নেই সেমাই-চিনিও। অথচ আজ ঈদ। নেই হাসিমুখ, আনন্দের ছিটেফোটাও। এভাবেই ঈদের দিন পার করছিল হতদরিদ্র ভ্যানচালক আব্দুল জব্বার।
সোমবার বেলা ১১টায় হঠাৎ ঈদ উপহার পেয়ে কেঁদে ফেললেন ভ্যানচালক জব্বার। তারপরই হাসি ফুটে উঠলো জব্বার ও তার পরিবারের মুখে। এবার চুলা জ্বলবে তার।
ঈদ উপহার হিসেবে সেমাই, চিনি, বাদাম, দুধ, কিচমিচ, মুরগি, আলু, তেল ও চাল তুলে দেওয়া হয়। উপহার সামগ্রী তুলে দেন সাংবাদিক আকরামুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন ইমরান হোসেন, ফারুক খান, আব্দুল গফুর সরদার, জাহিরুল ইসলাম।
হতদরিদ্র ভ্যানচালক আব্দুল জব্বার সরদার জানান, ঈদের একটু সেমাই চিনিও কিনতে পারিনি। আমার টাকা নেই। কেউ কোন সহায়তাও দেয়নি। বসতি ঘরটি ভেঙে গেছে। পাশের একটি কুড়েঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি।
উপহার সামগ্রী পাওয়ার পর হাসিমুখে তিনি বলেন, সকাল থেকে চুলাও জ্বলেনি। চুলা এবার জ্বলবে। আমি খুব খুশি হয়েছি। এ আনন্দ মুখে বলে বোঝাবো যাবে না।
উপহার সামগ্রী দেওয়ার সময় দেখা যায়, জব্বার সরদারের রান্না ঘরে এলোমেলো পড়ে আছে রান্নাঘরের জিনিসপত্র। ঈদ উপলক্ষ্যে কোন আয়োজনও নেই। চুলাও জ্বলেনি। স্থানীয় বাসিন্দারাও জব্বারের অসহায়ত্বের কথা বলেন।
সাংবাদিক আকরামুল ইসলাম জানান, ঈদের কোন খাদ্য সামগ্রী আব্দুল জব্বার সরদার অভাবের তাড়নায় ক্রয় করতে পারেনি ঘটনাটি জানার পর রোববার রাতে ফেসবুকে স্টাটাস দিলে চাকুরিজীবী শেখ হাফিজুর রহমান তার ঈদের সামগ্রী ক্রয়ের জন্য সহায়তা করেন। সেই অর্থে তার জন্য ঈদ সামগ্রী ক্রয় করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একটি পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে।






মন্তব্য