<p class="solder">করোন ভাইরাস:</p>

শিবচরে পূর্বে আক্রান্তরা ফের আক্রান্ত হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক

  • শিবচর প্রতিনিধি:
  • মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০ ১২:০০:০০
  • কপি লিঙ্ক

শিবচরে করোনা ভাইরাসে পূর্বে আক্রান্ত হওয়া রোগী সুস্থ হয়ে পুনরায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে ভর্তি হওয়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রথম কনটেইনমেন্ট (লকডাউন) ঘোষিত এলাকা মাদারীপুরের শিবচর। শিবচরে এ পর্যন্ত আক্রান্ত মোট রোগী ৯জন।

এরা দুই ইতালি প্রবাসী পরিবারের সদস্য। গত ২৪ মার্চ এদের মধ্যে একজন (এক ইতালি প্রবাসীর বাবা) মারা যান। বাকি ৮জনের সবাই একে একে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। ফলে শিবচর করোনা রোগী মুক্ত হয়। জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু গত ৫ এপ্রিল এদের মধ্যে ৩জন আবার করোনা রোগীর উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে ভর্তি হন এবং নমুনা পরীক্ষায় কোভিড-১৯ পজিটিভ হন। গত ২৭ মার্চ এই তিনজনকে আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা তিনজনের মধ্যে দুজন স্বামী-স্ত্রী। এক ইতালি প্রবাসীর শশুড়-শাশুড়ী। এরা শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের হাজীপুরের বাসিন্দা। অপর একজন একই উপজেলার বহেরাতলা ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সী ইতালি প্রবাসী। আইসোলেশন থেকে মুক্ত হওয়ার পর বাড়িতে ফিরলে এই ৩ জনসহ ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পক্ষ থেকে আইইডিসিআর এ পাঠালে এই ৩ জনের মধ্যে পুনরায় সংক্রমন পাওয়া যায়। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ ঐ দুই পরিবারের আরও তিনজনকে আইসোলেশনে পাঠান এবং তাদের সংস্পর্শে আসা অন্তত ৫০জনকে হোম কোয়ারেন্টিন পালনের নির্দেশ দেন। এতে জনমনে আবার নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

আক্রান্ত এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তাদের মধ্যে একজন স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়েছেন। মসজিদে মিলাদ পড়িয়েছেন। সেই মসজিদের মুসল্লীদেরকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। ফলে ঐ এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন পুরো উপজেলাকে লকডাউন করে রেখেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের যে ছয়টি স্থানকে করোনা সংক্রমণের ঝুকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শিবচর উপজেলা তার মধ্যে অন্যতম।

শিবচর পৌরসভার মেয়র আওলাদ হোসেন খান বলেন, ছাড়পত্র প্রাপ্তরা আবারো সংক্রমিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আমাদের উপজেলাজুড়ে আতংক ছড়িয়েছে। দুপুর ২টার পর ওষুধ দোকান ছাড়া সব দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চীফ হুইপ মহোদয়ের ঘরে ঘরে খাবার দেয়া কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।

সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, ৩ জনকে সদর হাসপাতালের আইসোলোশনে রাখা হয়েছে। আরো এক প্রবাসীসহ ৩ জনকে আইসোলেশনে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুব হাসান বলেন, শিবচরের সকল প্রবেশদ্বারসহ সকল সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওষুধের দোকান ছাড়া সকল দোকান দুুপুর ২ টা থেকে বন্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসক মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর শিবচরকেও আমরাও লকডাউন ঘোষণা দিয়েছি। ছাড়পত্র প্রাপ্তরা আবারো আক্রান্ত হওয়ায় তাদের আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে। জনগণকে ঘরে রাখতে আমরা কঠোর থাকবো। চীফ হুইপ স্যার সার্বক্ষণিক খোজখবর রাখছেন।

জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ও শিবচর আসনের সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সবাইকে যার যার ঘরে থাকতে হবে।

মন্তব্য