শিবচরে সংক্রমনের গতি স্থিতিশীল থেকে উন্নতির দিকে: স্বাস্থ্য বিভাগ

  • ওয়াহিদ মুরাদ, শিবচর:
  • শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০ ১২:০০:০০
  • কপি লিঙ্ক

করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে দেশের প্রথম কনটেইনমেন্ট ঘোষিত শিবচরের জনজীবন সীমিতকরনের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলো। এক সপ্তাহের অঘোষিত লকডাউনে সংক্রমনের গতি স্থিতিশীল থেকে উন্নতির পথে বলে দাবি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। সংক্রমিতর সংখ্যা একই রয়েছে। বেশ কিছু সংখ্যক নমুনা সংগ্রহ করলেও তা নেগেটিভ এসেছে বলে জানান তিনি।

এদিকে এক সপ্তাহের মাথায় এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর উদ্যোগে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসী ও স্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য ও ওষুধ সহায়তার গতিবেগ আরও বেড়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এতে স্বস্তি নেমে এসে জনজীবনে। সবাইকে যার যার ঘরে আবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সরেজমিনে জানা যায়, ঢাকার পর মাদারীপুর জেলায় সর্বোচ্চ ১০জন করোনা রুগী সনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৯জনই শিবচর উপজেলার। ১৯ মার্চ বিকেলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন এড়াতে দেশের শিবচরের ৪টি এলাকাকে কনটেইনমেন্ট ঘোষণা দিয়ে জনগনের চলাচল সীমিতকরন করে প্রশাসন। জরুরী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া সকল দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করে। এসকল এলাকার প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ অবরুদ্ধ হয় বলে প্রশাসনিক সূত্র দাবি করলেও কার্যত শিবচর উপজেলাটিই অচল হয়ে পড়ে। আড়াই শতাধিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে ১৭টি স্পটে। প্রশাসনিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধিদের ব্যাপক তৎপরতা ছাড়াও সাধারণ মানুষ স্বতস্ফুর্তভাবে ঘরবদ্ধ থাকতে দেখা যাচ্ছে। শুনশান নিরবতা সর্বত্র। ইতোমধ্যে একটি স্কুলে খোলা হয়েছে ১০ শয্যার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন।

অবরুদ্ধ পরিস্থিতির ৩য় দিন থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর পক্ষ থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসী ও স্বল্প আয়ের ৮শ পরিবারের মাঝে খাবার হিসেবে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেয়াজ, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বাড়িতে বাড়িতে পৌছে দেয়া হয়। এ ত্রানের আওতায় ৫ হাজার পরিবার অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। মৎসজীবী ৫৭৫ পরিবারের জন্য ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। দরিদ্র অসহায় ২ হাজার ১ শত ৯৬ পরিবারের জন্য ভিজিডির ৩০ কেজি করে পুষ্টি চাল বিতরণ চলছে।

এ উপজেলায় এ পর্যন্ত ২ চিকিৎসক, ১৯ শিক্ষার্থীসহ ১৯৪ জন জন হোম কোয়ারেন্টাইন অর্ন্তভূক্ত ছিল।এরমধ্যে ৩৪ জন অবমুক্ত হয়। সম্প্রতি এ উপজেলায় ৬শ৮৪ জন প্রবাসী প্রবাস থেকে দেশে ফিরে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোস জানান, এ উপজেলার এক প্রবাসীর পরিবারের ৮ জনসহ ৯জন করোনা রুগী সংক্রমিত হয়েছে। আইইডিসিআর গত ২দিনে ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করলেও সব নেগেটিভ এসেছে বলে জানতে পেরেছি। নতুন কোন সংক্রমন নেই। মূলত উপজেলাটি দ্রুত কনটেইনমেন্ট ঘোষণা করার পর চীফ হুইপ স্যারের খাবার ও ওষুধ বিতরনের কর্মসূচীটি ঘরে ঘরে চালু করায় স্বল্প আয়ের মানুষ ও প্রবাসীরা আশস্ত হয়ে বিনাপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছে না। মানুষও অনেক সচেতন। এ উপজেলার দৃষ্টান্ত সারাদেশে মানলে সুফল আসবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কনটেইনমেন্ট ঘোষনার পর আড়াই শতাধিক পুলিশ সদস্য,কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ একযোগে মিলে আমরা সবাইকে ঘরে রাখতে সমর্থ্য হয়েছি। সীমাবদ্ধতার তৃতীয় দিনেই চীফ হুইপ স্যারের উদ্যোগে খাবার ও ওষুধ বিতরন কর্মসূচী শুরু হওয়ায় সফলভাবে সবকিছু সম্ভব হচ্ছে। স্যারের খাবার ও ওষুধ কর্মসূচী আরো গতিশীল হয়ে পরিধি বেড়েছে।

পৌরসভার মেয়র আওলাদ হোসেন খান বলেন, খাবার ও ওষুধ আমরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পৌছে দিচ্ছি। চীফ হুইপ লিটন চৌধুরী সার্বক্ষনিক নজরদারি করছেন। সবাইকে যার যার ঘরে আবদ্ধ থাকতে হবে।

মন্তব্য