সদরপুরে পিতার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা হলে বিথি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ১২:০০:০০
  • কপি লিঙ্ক

ফরিদপুরের সদরপুরে পিতার মরদেহ বাড়িতে রেখে মেয়ে এবার এসএসসি(বিজ্ঞান) পরীক্ষা দিয়েছে । সদরপুর উপজেলার বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে আজ রোববার এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষার্থীর নাম বিথী আক্তার। সে উপজেলার চন্দ্রপাড়া সুলতানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিথী।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীর বাড়িতে চলছে তার পিতার লাশ দাফনের প্রস্তুতি। স্বজনের শোকে শোকাহত রয়েছে পরিবার। এমন অবস্থায় বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিচ্ছে সে।

এলাকাবাসী জানায়, ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়ার রাজারচর কাঠতলা মোড় এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার আলী (৫০)। আজ রোববার সকালে বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। দুপুরের দিকে তাঁর জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়।

আনোয়ার আলীর দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে সেজ মেয়ে বিথী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিষয়ে স্বজনেরা দোটানায় পড়েছিলেন। তবে বিথী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাবাকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষা দেয় সে। বিথীর পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরলেই বাবার দাফনও কাজ শেষ হবে। বিথীর বাবা একজন কৃষক। বাবার স্বপ্ন ছিলো মেয়েকে যত কষ্টই হোক মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করা। পারিবারিকভাবে অস্বচ্চল থাকা সত্ত্বেও মেয়েকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাবার প্রবল ইচ্ছার জেরে বিথী এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগে বিথী আক্তার জানান, বাবা তাকে অনেক ভালোবাসতেন। বাবা চাইতেন, সে যেন পড়ালেখা করে অনেক বড় হয়। বাবার ভালোবাসা এবং স্বপ্নের জন্যই যদি এ পরীক্ষা দেওয়া। বিথী কাঁদছে পিতার জন্য। তার কান্নার রোলে সাথে সহপাঠীরাও শোকাহত হয়ে পড়ে। তার সহপাঠীরা তাকে শান্তনা দিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

পরীক্ষায় দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল বলেন, বাবাকে হারানো যেকোনো সন্তানের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। এরপরও বিথী বাবা হারানোর কষ্ট নিয়ে পরীক্ষায় দিয়েছে। আমরা তার পরীক্ষার সময় যতটা সহযোগিতা দরকার করেছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বলেন, বিথী পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আসার পর জানতে পেরেছি। তাকে শান্তনা দিয়েছি এবং পরীক্ষা দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য