ওরা মানবতার ফেরিওয়ালা

  • শফিকুল ইসলাম শামীম, রাজবাড়ী
  • বুধবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ১২:০০:০০
  • কপি লিঙ্ক

না, কোন সামাজিক সংগঠন বা সাহায্যে সহযোগিতা তুলে নয়। পড়া লেখার খরচ থেকে বাঁচিয়ে এবং প্রাইভেট পড়িয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ায় তাদের নেশা। সপ্তম শ্রেণি পড়াকালীন সময় থেকে প্রতি মাসের শুরুতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ক্ষুধার্থ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন সানজিদা ইসলাম ও সৈয়দা নাবিলা আহমেদ অথৈ। তবে কোন হোটেল থেকে নয়। নিজেরা রান্না করে। রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী শামীম ব্যাপারীর মেয়ে সানজিদা ইসলাম। দুই ভাই বোনের মধ্যে সানজিদা বড়। বর্তমান লেখাপড়া করেন ঢাকা পলিটেকনিক ডিপ্লোমা কলেজের প্রথম বর্ষে। রাজবাড়ী সদর উপজেলা সজ্জনকাঁন্দার সৈয়দ আলী আহমেদ এর মেয়ে অথৈ। অথৈ রাজবাড়ী আবুল হোসেন মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।


বাবা-মায়ের না জানিয়ে টিউশনি, রিক্সায় না গিয়ে পায়ে হেঁটে কলেজে। অপ্রয়োজনীয় খরচ না করে। মাস শেষে জমানো টাকা। আর এই টাকা দিয়ে বাজার থেকে শুরু করে নিজের হাতের রান্না। এর পর প্যাকেট করে দুই বান্ধবী মিলে ঘুরে ঘুরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষুধার্থ মানুষের খুঁজে খাবার তুলে দেওয়ায় তাদের নেশা। পড়ালেখার কারণে দুই বান্ধবী আলাদা থাকলেও মোবাইলে যোগাযোগ হয় নিয়মিত। প্রতিমাসে যার যার নিজস্ব বাড়ি থেকে রান্না করে খাবারের প্যাকেট ব্যাগে নিয়ে বের হয়। লোক চক্ষুর আড়ালে সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে যায় তারা। কখনও সেল্ফী বা ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন নাই। ভালো লাগার নেশা থেকে ক্ষুধার্থ মানুষের পাশে ছুঁটে যায় তারা। প্রতি মাসে তারা ৩০/৪০জন ব্যক্তি’র খাবারের ব্যবস্থা করেন।

সানজিদা ইসলাম জানান, ক্ষুধার্থ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার মধ্যে যে আনন্দ তা বলে বুঝানো যাবে না। শুধু অনুভব করা যায়। তাই আমি বার বার ছুঁটে যাই ক্ষুধার্থ মানুষের পাশে। আল্লাহ যেন আমাকে অসহায় ক্ষুধার্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সামর্থ দেয়। আমি যেন আজীবন তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি। তিনি আরো বলেন, এই সমাজের সামর্থবান ব্যক্তিরা যদি প্রতিমাসে পাঁচজন ক্ষুধার্থ মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতো তাহলে দেশে ক্ষুধার্থ মানুষ খুঁজে পাওয়া যেতো না।

সৈয়দা নাবিলা আহমেদ অথৈ জানান, শুরু করি বান্ধবী সানজিদার অনুপ্রেরনায়। এখন আমারও ভালো লাগে। তাই প্রতিমাসে ছুঁটে যাই অসহায় ক্ষুধার্থ মানুষের পাশে। বাবা’র কাছ থেকে রিক্সা ভাড়া নিলেও প্রতিদিন আমি পায়ে হেঁটে কলেজে যাই। আর এই টাকা দিয়েই প্রতিমাসে ১৫/২০ জন ক্ষুধার্থ মানুষের মুখে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করি।

মন্তব্য