আজ মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী'র ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী 

  • ওয়াহিদ মুরাদ, শিবচর:
  • মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২০ ১২:০৯:০০
  • কপি লিঙ্ক

জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য ও গণপরিষদের প্রাক্তন সদস্য,বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক, সমাজ সেবক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই)-এর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
 
মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই) মাদারীপুর ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য,গণফোরামের প্রাক্তন সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও সমাজসেবক ছিলেন। তিনি তৎকালীন সময়ে জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা বাংলার বাণী’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন। 

এছাড়াও আরমবাগ ক্রীড়াচক্র ও খুলনা আবাহনী ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক দিক দিয়ে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই) মাদারীপুরের উন্নয়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তিনি শিবচরে শিক্ষা বিস্তারের জন্য বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। 

পদ্মা পাড়ের একসময়ের পিছিয়ে পড়া জনপদ শিবচরের নারী শিক্ষার অগ্রদূত তিনি । স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে শিবচরের গুয়াতলা গ্রামে দাদাভাইয়ের একক প্রচেষ্টায় ১৯৭৪ সালের ১ জানুয়ারী শিবচরে প্রতিষ্ঠা করেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়াও তিনি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা।

ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী দাদা ভাই ১৯৩৪ সালের ১৫ই আগস্ট মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা নুরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং মা চৌধুরী ফাতেমা বেগম। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় বোনের সন্তান।

দাদাভাই এর শিক্ষা জীবন শুরু হয় দত্তপাড়ার টিএন একাডেমী থেকে। এরপর মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি পাশ করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যূত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে কাজ করেছেন নিরলসভাবে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন, একই সাথে মুজিব বাহিনীর কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী দাদা ভাই। 

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন মাদারীপুর থেকে। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনসহ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯১ সালের ১৯ মে ৫ম জাতীয় সংসদের সদস্য থাকাকালীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এই মহান নেতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার জ্যেষ্ঠ ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী মাদারীপুর-১ আসন থেকে ছয় বারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদের সংসদ-সদস্য ও ৯ম জাতীয় সংসদে হুইপ হিসেবে দায়িত্বপালন করেন এবং একাদশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপের দায়িত্ব পালন করছেন। তার কণিষ্ঠ সন্তান মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) ফরিদপুর-৪ আসন থেকে দশম এবং একাদশ জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

 

বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য