আজ পত্রিকা অন্তর দেখলাম ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ (NBR) একটা সার্কুলার জারি করেছে যেখানে বলা হয়েছে ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল- ২০২০ ইং পর্যন্ত ছুটির দিনসহ ভ্যাট অফিস খোলা থাকবে এবং এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য সকলকে অবগত করা হয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এই দুঃসময়ে COVID-19 আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সরকার সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি করা সহ সারা দেশকে লকডাউন এর আওতায় নিয়ে এসেছে, সকল ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শুধুমাত্র জরুরী সেবা ব্যতীত।
সরকার করোনা মোকাবেলার জন্য জনগণের স্বার্থে নানামুখী উদ্যোগ ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে, গরীব অসহায় দুস্থ সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের জন্য খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে এবং বার বার গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে সতর্কতার সাথে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সাথে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঘরে থাকতে অনুরোধ জানাচ্ছে। সেই সাথে শিল্প ব্যবসায়-বাণিজ্য সহ বিভিন্ন খাতে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যাতে করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা যায়, গ্যাস বিদ্যুৎ পানি সহ বিভিন্ন ধরনের বিল বিলম্বে পরিশোধ করা যাবে এর জন্য কোন অতিরিক্ত চার্জ ধার্য করা হবে না এ বিষয়ে জনগণকে নিশ্চয়তা দিয়েছে সরকার।
আমরা দেখেছি বিভিন্নভাবে সরকার দেশ ও দেশের জনগণের জন্য এই দুঃসময়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশের সরকার করোনা প্রতিরোধে এত বেশি জোরালো ভাবে কাজ করে যাচ্ছে যা প্রশংসার দাবি রাখে। যেখানে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বারবার সরকার আমাদের ঘরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছে সেখানে ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ (NBR) VAT (ভ্যাট) রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য সকলকে কিভাবে অবহিত করল সে বিষয়ে একটা প্রশ্ন আমার রয়ে যায়.? আমি ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ (NBR) এর চেয়ারম্যান কে অনুরোধ জানাবো দেশের দুঃসময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত, সরকার এই লকডাউন তুলে না নেওয়া পর্যন্ত VAT (ভ্যাট) রিটার্ন দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি করার জন্য এবং পরবর্তীতে বিলম্বে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন রকম বিলম্বিত ফি পরিশোধ ছাড়াই জমা দেওয়া যাবে, সরকারের লকডাউন নীতির সাথে তাল মিলিয়ে এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কিনা অথবা তিন (৩) মাসের একটা সুযোগ প্রদান করা যায় কিনা ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ রইল।
এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যাংকিং লেনদেন একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয়ার ব্যাপারটা অনেকাংশে ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত। সেই ব্যাংকিং লেনদেন আমরা জানি বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী এখন থেকে লেনদেনের জন্য দুই ঘন্টা ব্যাংক খোলা থাকবে এবং এই কার্যক্রম সীমিত আকারে চলবে যে সমস্ত এলাকায় করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে সেই সমস্ত এলাকা আবার লকডাউন এর আওতায় থাকবে। কারণ ইতিমধ্যে কিছু ব্যাংকার করোনাই আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যুবরণ করেছে তাই ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি এড়াতে ব্যাংকিং সেবা সংক্ষিপ্ত আকার করেছে সরকার। তাই জনগণের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা চিন্তা করে আশাকরি ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ (NBR) এর চেয়ারম্যান VAT (ভ্যাট) রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করবেন এবং নতুন করে আরও একটি সার্কুলার মাধ্যমে আমাদের আশ্বস্ত করবেন।
লেখক: ড. যশোদা জীবন দেবনাথ, সিআইপি.
ব্যবস্থাপনা পরিচালক টেকনোমিডিয়া লিমিটেড।






মন্তব্য