গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরো ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ১৪১ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ১৭১ জনের। আর সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ৮৭ হাজার ৫২০ জন।
আজ রবিবার (১৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন প্রকাশে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে দেশে আরো ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁরা ২৭ জন পুরুষ এবং পাঁচজন নারী। এঁদের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে দুইজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে তিনজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ১৭১ জনের।
জানানো হয়, নতুন যে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা ঢাকা বিভাগের ১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জন, সিলেট বিভাগের দুইজন, বরিশাল বিভাগের একজন, রংপুর বিভাগের একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের একজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২০ জন, বাসায় ১১ জন এবং হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয় একজনকে।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৯০৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮ হাজার ৭৩০ জন।
ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৪ হাজার ৬৯০টি। একই সময় পূর্বের নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০৫টি। এর মধ্যে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে তিন হাজার ১৪১ জনকে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮৭ হাজার ৫২০ জন। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে পাঁচ লাখ এক হাজার ৪৬৫টি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৬০টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার ফলে এই তথ্য এসেছে বলে জানান তিনি।
ব্রিফিংয়ের শুরুতেই জানানো হয়, দেশে করোনা পরীক্ষায় নতুন করে আরো একটি নতুন ল্যাব সংযোজিত হয়েছে। এটি হলো রাজধানীর আইসি হাসপাতাল লিমিটেড। এ নিয়ে করোনা পরীক্ষায় এখন মোট ল্যাবের সংখ্যা দাঁড়াল ৬০টিতে।
আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৭১২ জনকে। একইসময় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২৯৪ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে গেছেন ১৫ হাজার ২৮১ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৫২৩ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৯ হাজার ৭৫৮ জন।
কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গেও তথ্য দেওয়া হয় বুলেটিনে। বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এসেছেন দুই হাজার ৭৯২ জন। একইসময় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ৭৬৩ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট তিন লাখ ২০ হাজার ৪৩৬ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ ৫৮ হাজার ৬২২ জন। ছাড়ের পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬১ হাজার ৮১৪ জন।
সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে সেবা প্রদান যায় বলে জানানো হয় বুলেটিনে।
বুলেটিনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং আইইডিসিআর'র হটলাইনে কল এসেছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৩১৪টি। এ নিয়ে এ পর্যন্ত হটলাইনে এক কোটি ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩২ জনকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব কলে সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েছে আরো ১১ জন। এ নিয়ে এখন মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ হাজার ৩৪৩ জনে। এ ছাড়া বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে হটলাইনে চার হাজার ২১৭ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানানো হয় বুলেটিনে।
বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন






মন্তব্য