নিউমার্কেটে ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

  • অনলাইন
  • বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬ ০১:০৮:০০
  • কপি লিঙ্ক

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও স্থানীয় যুবদল নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঘটা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিউমার্কেট থানা-পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চলের অনুসারীরা কিছু দোকান বসিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে দোকানগুলো তুলে দিতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

সহিংসতার খবর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেট সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ বাধলে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতরা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি জানান, সংঘর্ষে তাদের সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলামসহ অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।

অন্যদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চল দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। তার ভাষ্যমতে, ফুটপাতে যুবদলের কিছু কর্মী ব্যবসা করে আসছিলেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কিছু বহিরাগত তাদের মারধর করেছে এবং তার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।

নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিন উদ্দিন জানান, ফুটপাতে দোকান বসানো ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনো পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকার ফুটপাথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে কয়েক দফায় দোকান বসানো ও উচ্ছেদ নিয়ে ছোটখাটো হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার এটি বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নেয়। উভয় সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য