রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে ভাসমান অবস্থায় প্রেমিক যুগলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের নাম- প্রান্ত দেওয়ানজি হিমেল (২১) ও তাহমিনা খানম তিন্নি (২০)। বৃস্পতিবার রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কের বরাদম এলাকার এঘটনা ঘটে।
এ নিয়ে ২৩জুলাই ৭.৩৩মিনিট তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করেন। এলাকায় উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেয়া দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার ১নং পাথর এলাকার বাসিন্দা ছোটন দেওয়ানজির ছেলে প্রান্ত দেওয়ানজি হিমেল ও একই শহরের বনরূপা এলাকারবাসীন্দা তাহমিনা খানম তিন্নি বিদ্যালয় পড়া অবস্থায় প্রেমের সর্ম্পক ছিল।
দীর্ঘ ৪বছরের প্রেমের সর্ম্পকের খবর তাদের পরিবারের স্বজনদের মধ্যে জানা জানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। কারণ প্রান্ত ছিল হিন্দু আর তিন্নি ছিল মুসলিম। ধর্মগত সমস্যা থাকার কারণে তাদের পরিবার এ সর্ম্পক মেনে নেয়নি।
পরে প্রান্তকে রাঙামাটি থেকে দূরে ঢাকা ক্যামব্রিয়াান স্কুল এন্ড কলেজ ভর্তি করি দেওয়া হয়। কিন্তু তবুও তিন্নির সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। এক পর্যায়ে ২৩জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় প্রেমিকা তিন্নিকে নিয়ে ঘর ছাড়ে প্রান্ত। কিন্তু এ আগে তারা তাদের ফেসবুকে “আলবিদা” বলে একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করেন। এরপর থেকে কোন খোজ পাওয়া যায়নি তাদের। দুঃচিন্তায় প্রান্তর পরিবারের পক্ষ থেকে রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় একটি নিখোজ ডায়রিও করা হয়।
নিখোঁজের দু'দিন পর তাদের মরদেহ দেখা যায় রাঙামাটি কাপ্তাই সড়কের বরাদম এলাকার হ্রদে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক রনি এঘটনার সত্যা নিশ্চিত করে বাংলার জমিনকে বলেন, আমরা সবকিছু তদন্ত করে দেখেছি। ছেলে ও মেয়েটির মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক ছিল।
দু’জন দু’ধর্মের হওয়ার কারণে বিষয়টি কেউ স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি। তাই হয়তো তারা আত্মহত্যার পথ খুঁজে নিয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ মৃত প্রান্ত ও তিন্নির পরিবার।






মন্তব্য