কলার মোচা বিলুপ্তির পথে

অবহেলা ও সচেতনতার অভাবে হারাচ্ছে পুষ্টিকর দেশীয় সবজি

  • কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
  • সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:১২:০০
  • কপি লিঙ্ক

একসময় গ্রামবাংলার অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় দেশীয় সবজি কলার মোচা বর্তমানে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। আধুনিক খাদ্যাভ্যাস, বাজারে চাহিদার ঘাটতি এবং রান্নাকে ঝামেলাপূর্ণ মনে করার প্রবণতায় মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ায় পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজিটি আজ অবহেলিত হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলার মোচায় প্রচুর আঁশ, আয়রন ও ভিটামিন রয়েছে, যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে, হজম শক্তি বাড়াতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। অথচ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই উপকারী খাবারটির অনুপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

স্থানীয় কৃষক ইবাদত হোসেন জানান, “আগে কলার মোচার ভালো কদর ছিল। এখন বাজারে নিলে অনেক সময় বিক্রি হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক মোচা ফেলে দিতে হয় কিংবা নষ্ট হয়ে যায়।”

উপজেলার ধলাইরচর গ্রামের কৃষক বাবর আলী বলেন, “কলার ফল বিক্রি হলেও মোচার তেমন চাহিদা নেই। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে।”

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা ডা. জলিল ইউনানী আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. হাকীম মো. বাকাওয়ালী মোল্লা বলেন, “ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাশাস্ত্রে কলার মোচা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ও ঔষধি উপাদান। এটি শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমায়, রক্ত পরিশোধনে সহায়তা করে এবং নারীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় উপকারী। এমন একটি প্রাকৃতিক খাদ্য হারিয়ে যাওয়া সত্যিই উদ্বেগজনক।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা জানান, “কলার মোচা একটি পুষ্টিকর খাদ্য হলেও সঠিক বাজারজাতকরণ ও প্রচারের অভাবে এটি হারিয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”

স্বাস্থ্যবিদদের অভিমত, কলার মোচার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, সহজ রান্না পদ্ধতির প্রচার এবং কার্যকর বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে এই দেশীয় সবজি আবারও মানুষের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য