জাইমা জারনাস তানিশা বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। সে তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। মুখের ভাষা প্রকাশ করতে না পারলেও মনের ভাষা দিয়েই অর্জিত তার সাফল্য সবাইকে অবাক করে দিয়েছে।
তানিশা টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঘাটাইল সালেহা ইউসুফজাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের ঢাকা বোর্ডের ভোকেশনাল শাখার নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ঘোষিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ ৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উর্ত্তীন হয়। তার এই কৃতিত্ব সারা উপজেলাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
তানিশার বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের কমলাপাড়া গ্রামে। তার বাবা মো. জয়নাল আবেদীন জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জের উপজেলা প্রকৌশলী।
মা মাফুজুন নাহার বিউটি ঘাটাইল উপজেলার কমলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মেয়ের এমন সাফল্যে তার বাবা-মা দুজনেই আনন্দিত।
তানিশার মা স্কুল শিক্ষিকা বিউটি জানান, ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টে প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান প্রয়াসে শিশু শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে তানিশা। নবম শ্রেণিতে তাকে ভর্তি করা হয় স্থানীয় ঘাটাইল সালেহা ইউসুফজাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।
ওই স্কুল থেকেই সে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পড়াশোনার ব্যাপারে স্কুলের শিক্ষকদের পাশাপাশি আমিও সহযোগিতা করতাম। সবার সহযোগিতার কারণে তার ভালো ফলাফল করা সম্ভব হয়েছে। ওর একমাত্র ভাই প্রবাসী। তার ইচ্ছে সে বিদেশে গিয়ে লেখাপড়া করবে।
তার এ সাফল্যে তার বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক বাসুদেব পাল বলেন, ‘তানিশা পরিশ্রমী ও মেধাবী শিক্ষার্থী। বাক-প্রতিবন্ধীতা তার লেখাপড়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তাকে এ সাফল্য এনে দিয়েছে। ভবিষ্যতে সে আরো সাফল্য অর্জন করবে বলে আমরা আশাবাদী।’




.jpg)

মন্তব্য