“আমরাই নিখিল” স্লোগানকে অন্তরে ধারণ করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় রামশীল ইউনিয়নে পুলিশের বিরুদ্ধে মানবন্ধন করেছে এলাকার সাধারণ জনগন।
১২জুন সকাল ১০ ঘটিকায় রামশীল বাজারে দুই ঘন্টা ব্যাপী এ মানব বন্ধনে নারী পুরুষ ছাত্র-ছাত্রী সহ এলাকার সাধারন জনগন অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শত শত নারী পুরুষের ঢল মেনে আসে। করোনার মৃত্যুর ভয়কে ভুলিয়ে দিয়েছে নিখিলের মৃত্যু। নিখিলের স্বজন ও গ্রামবাসীরা ফুসেঁ উঠেছে বিক্ষোভ আর প্রতিবাদে।
মানব বন্ধনে বক্তারা নিখিল তালুকদারের হত্যার ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার এএসআই শামিম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান। এ সময় বক্তব্য রাখেন, সাবেক ইউপি সদস্য অরুন মল্লিক, রামশীল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সবুজ বরণ তালুকদার (এ্যাপোল), রামশীল মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য সুনিতি তালুকদার, নিহত নিখিল তালুকদারে মেয়ে নিশিতা তালুকদার প্রমুখ।
এর আগে রোববার রাত সাড়ে নয়টায় নিহত নিখিলের ছোট ভাই মন্টু তালুকদার বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে থানার এএসআই শামীম হাসান ও সোর্স মো. রেজাউলকে আসামি করা হয়। এরপরই শামীম হাসান ও রেজাউলকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ লুৎফর রহমান বাংলাদেশ জমিনকে বলেন, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে এএসআই শামীম হাসান ও সোর্স মো. রেজাউলকে আদালতে তোলা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্র জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে কোটালীপাড়ার রামশীল বাজারের ব্রিজের কাছে নিখিল তালুকদারসহ চারজন তাস খেলছিলেন। এ সময় সোর্স মো. রেজাউল গাজী ও একজন ভ্যানচালককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এএসআই শামীম হাসান। তিনি আড়ালে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে তাস খেলার দৃশ্য ধারণ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে তাস খেলতে থাকা চারজনই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় অন্য তিনজন পালিয়ে গেলেও নিখিল ধরা পড়েন। পরে তাঁকে মারপিটের পাশাপাশি হাঁটু দিয়ে পিঠে ও মেরুদণ্ডে আঘাত করেন শামীম। আহত অবস্থায় স্বজনেরা নিখিলকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে তাঁকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিখিল তালুকদার কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল গ্রামের নীলকান্ত তালুকদারের ছেলে।
বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন




.jpg)

মন্তব্য