বংশী নদীর বালুতে প্রভাবশালীদের থাবা, বিলীন হচ্ছে ফসলি জমিবংশী নদীর বালুতে প্রভাবশালীদের থাবা, বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি

  • অনলাইন
  • রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০ ১১:৪১:০০
  • কপি লিঙ্ক

ঢাকার ধামরাইয়ে বংশী নদীতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে এক শ্রেণীর বালু দস্যু। তারা স্থানীয় এমপির বাড়ির পশ্চিম পাশে প্রায় দুই বছর ধরে এ বালু উত্তোলন করে আসছেন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর এখানে নিত্যদিনের ঘটনা। ভুক্তভোগীরা বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না। লুটের বালু মজুদ আর বাজারজাত করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে ঘাট।  

এক জায়গা থেকে বালু ওঠানের ফলে নদী পাড়ের মাটি আলগা হয়ে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এর প্রতিকার চেয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না। আর যারা এ বালু উত্তোলন করছেন তারা ক্ষমতাশীল দলের নেতাকর্মী। তারা  প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মাসের পর মাস অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেই যাচ্ছেন। কোনমতেই এদের থামানো যাচ্ছে না। কিছু বললেই ভুক্তভোগীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও মারপিটের ভয় দেখান তারা।  

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বংশী নদীর টোপেরবাড়ি, হাট কুশুরা, পানকাত্তা, নরসিংহপুর, আমছিমুর, বাস্তা, গাওতারা, বালিয়া, চৌহাট, রাজাপুর, ভাকুলিয়া এলাকায় প্রায় ৩০টি স্পটে ছোট ছোট ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় ভূমি অফিসের লোকজন দেখেও না দেখার ভান করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। 

হাটকুশুরায় নজরুল ইসলাম, হাবিব, লিটন এবং পানকাত্তায় আজিজুল, সারবান, দেলোয়ার, রাজিবসহ কয়েকজন মিলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে তারা বংশী নদীর বালু লুট করছেন। কুশুরা হাটের পশ্চিম পাশে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে আছে ঐতিহ্যবাহী কুশুরা হাট। এছাড়া পানকাত্তা এলাকায় গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাশের ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে। হুমকির মুখে রয়েছে নির্মানাধীন একটি চারতলা ভবন ও  নদীর পাড় ঘেঁষা পানকাত্তা থেকে পাড়াগ্রাম পর্যন্ত নতুন পাকা সড়ক। চৌহাট বাজার ও সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি সংলগ্ন নদীতে বসানো হয়েছে মিনি ড্রেজার। ফলে যেকোনো মুহূর্তে নদীতে ধসে যেতে পারে এসব স্থাপনা। ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। 

বালিয়া, চৌহাট, জেঠাইল এলাকায় সম্ভাব্য এক চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস, পুলিশ ও কিছু অসাধু সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে বছরের পর বছর বালু উত্তোলন করে আসছেন। ভুক্তভোগী আবুল কাশেমসহ কয়েকজন বলেন, পানকাত্তা এলাকায় নদীর পশ্চিমপাশে আমাদের অনেকের ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। বরং বালুদস্যুরা উল্টো হুমকি দিচ্ছেন। আমরা এখন আতঙ্কেই আছি।

বালুমহাল বা মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ধারা ৫ এর ১ উপধারা অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এরপরও অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ না হওয়ায় বালু লুটেরা ভয়ানক শক্তিশালী আর সংঘবদ্ধ বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল হক বলেন, বংশী নদীতে অবৈধ ড্রেজার কয়েকবার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য