রাষ্ট্রপতিকে বিশিষ্টজনদের চিঠি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: ইসি শাহাদাত

  • অনলাইন
  • রবিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২০ ০৬:৫০:০০
  • কপি লিঙ্ক

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতিকে ৪২ বিশিষ্ট নাগরিকের চিঠি দেয়া ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘এরকম একটা বিষয় উপস্থাপন করা সুধীজনের জন্য বিবেচনা প্রসূত নয়।’

রবিবার বিকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচারণের অভিযোগ এনে ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক রাষ্ট্রপতিকে একটি চিঠি দেন। তাদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক চিঠিটি পাঠিয়েছেন৷ চিঠিতে অসদাচরণের পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যেরও অভিযোগ এনেছেন তারা৷

গত ১৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, এম হাফিজউদ্দিন খান, ড. আকবর আলী খান, সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, ড. হামিদা হোসেন, আলী ইমাম মজুমদার, খুশী কবির, অধ্যাপক পারভীন হাসান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ড. আহসান মনসুর, স্থপতি মোবাশ্বের হাসান, শামসুল হুদা, অধ্যাপক সি. আর আবরার, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ৪২ জন স্বাক্ষর করেছেন৷

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এটা হয়তোবা কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এগুলোর কোনোটার ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি না। কী উদ্দেশ্যে বিশিষ্টজনরা এটা করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘কী উদ্দেশ্যে তারা এ কাজ করেছেন, সেটা তারাই বলতে পারবেন। যে অভিযোগগুলো তারা তুলেছেন, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতি কী করবেন, সেটা তার ব্যাপার।’

অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা তুলে ধরে কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বিশিষ্টজনরা যে এ ধরনের কথা বলছেন, দু-একটা পত্রিকা বা টেলিভিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই তারা এ ধরনের একটা অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ও গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টা যে পত্রিকা ছাপিয়েছিল, সেখানে আমরা রিজয়েন্ডার দিয়েছিলাম। আমরা জানি না, সেটা তাদের নজরে এসেছে কিনা। দ্বিতীয়ত, গাড়ির যে ব্যবহারের বিষয়, আমার মনে হয় না আমাদের সেই প্রয়োজন আছে। কারণ, আমাদের প্রাধিকারভুক্ত গাড়ি সেটাই আমরা শপথ নেওয়ার তিন বছর পর পেয়েছি। তারা যে গাড়িগুলো অত্যন্ত বিলাসবহুল হিসেবে বলেছেন, আমরা জানি না বিলাসবহুল ছাড়া অন্য গাড়ি কোনগুলো। আমি তো দেখেছি, সেগুলো ইউএনওরাও ব্যবহার করছেন। বাড়তি গাড়ি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আমার নাই, আমার বিশ্বাস অন্যদেরও নাই।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির কাছে তারা অভিযোগ স্থাপন করলেন, আবার আমাদেরকেও অভিযুক্ত করে ফেললেন। শুধু সেটা না, আমাদের কী করণীয় বা আমাদের কী দণ্ড সেটাও এক অর্থে দিয়ে দিলেন। সেটা কতখানি বিবেচনাপ্রসূত বা শিষ্টাচার বর্জিত কিনা, সেটা বিবেচনার ভার আপনাদের।’

মানহানির বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন কিনা, এমন প্রশ্নে এই কমিশনার কিছু জানাতে রাজি হননি। আরেক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট চেষ্টা করছে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য। নির্বাচন কমিশনের যতটুকু করণীয় তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’

নির্বাচন কমিশন প্রশ্নের মুখোমুখি হলো কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না। জাতির কাছে আপনাদের মাধ্যমে আমি তুলে ধরেছি যে, সেটা কতখানি বিবেচনাপ্রসূত।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য