২০ কোটি মানুষের দেশে একসময় ফরিদপুর আমাদের জনপদ ছিল, এখন ফরিদপুরের ভাঙ্গা হয়ে উঠছে সবার জনপদ, সমগ্র দেশের যোগাযোগের কেন্দ্রস্থল। পদ্মাসেতু সহ ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বরিশাল-খুলনা বিভাগের সাথে রাজধানীর যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে, সাথে আধুনিক রেল যোগাযোগ। ভাঙ্গায় স্থাপিত হচ্ছে সেনানিবাস, বঙ্গবন্ধু মানমন্দির সহ বহু স্থাপনা। এ অবদানগুলো অস্বীকার করতে চাইলেও করার উপায় নেই, কারণ এগুলো দৃশ্যমান। ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুর জেলা শহর হলেও যোগাযোগের দিক দিয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হলো ভাঙ্গা।
রাজধানী ঢাকা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ যানজটের শহর, ফলে সারাদেশের মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর স্থাপন করবে সরকার, যাহা সময়োপযোগি উদ্যোগ । এটি প্রতিষ্ঠিত হলে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে, লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে, বেকারত্ব কমবে, প্রবাসীদের যাতায়াত সহজ হবে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে, এলাকা উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে।
স্থান নির্বাচনের সমীক্ষায় অন্যান্য এলাকার সাথে ভাঙ্গাও ছিল। সবধরনের জটিলতা কাটিয়ে ভাঙ্গাকেই নির্বাচিত করা এখন সময়ের দাবী। কিন্তু এটিও সত্য যে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখে ভাঙ্গার মানুষের ভাবনায়-হিসেবে পরিবর্তন আসছে। তাছাড়া ভাঙ্গা পার হলেই টুঙ্গিপাড়া।
প্রস্তাবিত এলাকার বেশিরভাগই সরকারি খাস জমি। বড় কোন কাজ করতে গেলে কিছু মানুষের জায়গা-জমির ক্ষতিপূরণ দিয়েই করতে হয়। পদ্মাসেতু এবং ঢাকা-ভাঙ্গা রেলসহ এক্সপ্রেসওয়ে করতে যাদের জায়গা-জমি গেছে, তারা কয়েকগুন টাকা নিয়ে সুখী জীবন-যাপন করছে, ট্যু শব্দটিও নেই। এক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্থ জনগণ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবে নিঃসন্দেহে। অন্য এলাকায় এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও ক্ষতিপূরণ দিয়েই করা হবে। তবে যেকোন উন্নয়নমূলক কাজের পেছনে নেতিবাচক এক বা একাধিক শক্তি কাজ করে, যা উন্নয়নকে ব্যাহত করে। তবে, সবধরনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে রাষ্ট্রের এই মহা উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে ভাঙ্গায়ই। শহীদুল চৌধুরী, লেখক ও শিক্ষাবিদ