উন্নত কিংবা অনুন্নত দেশে, সমতল কিংবা পাহাড়ে, যুদ্ধ ক্ষেত্র কিংবা শান্ত জনপদে সেবিকার উদ্দেশ্য এক এবং অভিন্ন। নিজেদের সীমাহীন আত্মত্যাগে অসুস্থকে সুস্থ করে তুলে তৃপ্ত তারা।
নার্স আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্হার মেরুদন্ড। নার্স মানে এক নিবেদিত প্রাণ। একটি সেবা দানকারী সত্বা। দেশজুড়ে আমাদের নার্সরা জীবন বাঁচাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে। তারা আমাদের আড়ালে থাকা নায়ক। করোনার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরক্ষা করতে তারা প্রথম সারিতে রয়েছে। নিজেদের পরিবার পরিজন ছেড়ে রোগীর সেবা করছেন তারা। জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন হাসপাতালে।
প্রশ্ন হলো এ কেমন মানবিকতা ? যারা জীবন বাজি রেখে মানুষকে সুস্থ করে তুলছেন, বাঁচার স্বপ্ন সার্থক করে তুলছেন, প্রিয়জনের কাছে হাসিমুখে ফিরিয়ে দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে এ কেমন অমানবিক আচরণ। যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। ভাইরাসে সংক্রামিত হওয়ার ভয়ে তাদের বাসা ছাড়া করা হচ্ছে। না, শুধু বাসা নয়, একবারে মহল্লা ছাড়া। সামজিকভাবে অপমান ও বৈষম্য এর শিকার হতে হচ্ছে।
পর্যাপ্ত পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) সরবরাহ করা হচ্ছে না। এমনকি ব্যক্তি স্বাধীনতাটুকুও হরণ করা হয়েছে। প্রবল অবহেলা, আসম্মান এবং অপমান সত্বেও তারা মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সেবা ধর্ম থেকে বিচ্যূত হননি। আপনার শিশুটি যখন মাতৃ -পিতৃ স্নেহে পরম আনন্দে দিন কাটাছে তখন এই স্বাস্হকর্মীদের বাচ্চাটি মা মা করে কাঁদতে কাঁদতে একটা সময় ঘুমিয়ে পড়ছে।
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায় নি,ক্ষয় হয়ে গেছে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য আসনে আসীন করতে হবে। অশেষ কৃতজ্ঞ, ভালোবাসা,ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি এই মানবতার যোদ্ধা এবং সম্মুখসারির যোদ্ধাদের প্রতি। জয় আপনাদের হবেই। করোনা যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই , হে বন্ধু !
মনের জোরের উপর কোন ঔষুধ নাই। তোমাকে পার করতে হবে একটি করোনা ঋতু। সকল স্বাস্হ্যকর্মীদের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। জাতি, আজীবন আপনাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আপনাদের অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণ অক্ষরে লেখা থাকবে।
লেখক: মো. মামুন হাসান বিদ্যুৎ এমবিএ (অধ্যায়নরত) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন