দ্বিতীয়বার সন্তান জন্ম দিয়েছেন গৃহবধূ আনোয়ারা বেগম (৩০)। একটি বা দুটি নয়, একে একে চারটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। যমজ ওই চার নবজাতকসহ মা সুস্থ আছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে জামালপুরের বেসরকারি হাসপাতাল জিয়া হেলথ কমপ্লেক্সে পৃথিবীর আলো দেখে নবজাতকগুলো। চার নবজাতকের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে প্রথম এক কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাকি তিন নবজাতক আলোর মুখ দেখে। চার নবজাতকের মধ্যে দুজন কন্যা ও দুজন ছেলেসন্তান। জন্মের পর থেকে সবাই সুস্থ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
আনোয়ারা বেগমের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের শিংদহ গ্রামে। তিনি একজন গৃহিণী। তাঁর স্বামীর নাম বেলাল মিয়া। তিনি অটোরিকশাচালক। এই দম্পতির আরও দুই কন্যাসন্তান আছে।
পরিবার জানায়, আনোয়ারা বেগম অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাঁকে একজন গাইনি চিকিৎসক দেখানো হয়। চিকিৎসক গর্ভে যমজ সন্তান থাকার কথা বলেন। গতকাল সোমবার রাতে তাঁর প্রসবব্যথা শুরু হয়। স্বজনেরা আজ সকালে ওই হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে স্বাভাবিকভাবে একটি কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একে একে তিন সন্তান পৃথিবীর আলো দেখে।
ওই গৃহবধূর স্বামী বেলাল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ১৬ বছর হলো তাঁদের বিয়ে হয়েছে। তাঁদের সংসারে ১১ বছর ও ৫ বছর বয়সী আরও দুই কন্যা আছে। এবার তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর একজন গাইনি চিকিৎসক দেখিয়েছিলেন। তিনি যমজ সন্তানের কথা বলেছিলেন। তবে একসঙ্গে চার সন্তানের কথা বলেননি। তাঁর স্ত্রী ও চার নবজাতক এখন পর্যন্ত সুস্থ আছে।
ওই হাসপাতালের গাইনি সার্জন সাজদা-ই-জান্নাত বলেন, প্রচণ্ড প্রসবব্যথা নিয়ে ওই নারী হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রথমে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে অনেক চেষ্টা করেও নরমাল ডেলিভারি করা যায়নি। ফলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আরও তিনটি সন্তানের জন্ম হয়। নবজাতকগুলোর ওজন কম হওয়ায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নবজাতকগুলো ও মা সুস্থ আছেন।