সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে বন্ড অটোমেশনের প্রতি


দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলেছে। সরকার আন্তরিকভাবেই চেষ্টা করছে উন্নয়নের এই গতি আরো ত্বরান্বিত করতে। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে সরকারের তথা প্রশাসনের মধ্য থেকেই।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি প্রশাসনের এমন কিছু অঙ্গ রয়েছে, যেখানে অনৈতিক উপার্জন বেশ রমরমা। লুটপাটের সুযোগও অবারিত। সরকার চেষ্টা করেও সেগুলো রোধ করতে পারছে না। কারণ অভ্যন্তর থেকেই সরকারের সে চেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করা হয়।

ফলে প্রতিবছর সরকার শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারায়। সৎ উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়। চোরা কারবার, মুদ্রাপাচার দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

জানা যায়, বন্ড সুবিধার নামে যে ব্যাপক অনিয়ম চলছে, তা রোধ করতে এবং বন্ড ব্যবসায়ীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ২০১৬ সালে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। ‘বন্ড অটোমেশন’ বা স্বয়ংক্রিয় বন্ড ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত ৮১ কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জুন মাসে।

প্রকল্পের সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তিন বছরের কাজের মধ্যে আছে, প্রকল্পের একটি অফিস নেওয়া এবং কিছু সেমিনারের আয়োজন করা। এখন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে আরো দুই বছর। একই চিত্র আমরা দেখেছি এর আগে দেশের ভূমি অফিসগুলো অটোমেশনের ক্ষেত্রেও। কোটি কোটি টাকা অনৈতিক উপার্জনের সুযোগ কেউই হাতছাড়া করতে চায় না। অথচ বন্ড ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয় করা গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অনেক উপকার পেত।

বর্তমানে বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য গুদামে প্রবেশ ও গুদাম থেকে বের করার জন্য আলাদা রেজিস্টার রাখতে হয়। আর এই দুই তথ্য রাখতে গিয়ে সৎ উদ্যোক্তাদের অনেক হয়রানি ভোগ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খুশি করতে না পারলে অযথা হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে এই সুবিধার আওতায় যারা চোরা কারবার ও মুদ্রাপাচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেত। অবৈধ ব্যবসা থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকারী কর্মকর্তারা নিশ্চয়ই তা চাইবেন না। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিই বন্ড অটোমেশনে প্রধান বাধা।

বন্ড সুবিধার আওতায় শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল বিনা শুল্কে আমদানি ও সম্পূর্ণরূপে রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করার কথা থাকলেও সুবিধাপ্রাপ্তদের বেশির ভাগই অন্যান্য পণ্য আমদানি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছে এবং শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে। যারা এই অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করার কথা, তারা রহস্যজনক কারণে এসব দেখেও না দেখার ভান করে। এ নিয়ে অতীতে পত্রপত্রিকায় বহু লেখালেখি হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই প্রকল্প নিয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের এই ধীরগতি সত্যিই দুঃখজনক। আমরা চাই, সরকার এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিক।

সূত্র; কালের কন্ঠ


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com