রোহিঙ্গা সংকটে চীনা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস!


রোহিঙ্গা সংকট ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে। আশ্রয়শিবিরের ঘিঞ্জি পরিবেশে থাকা রোহিঙ্গারা ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকে রাতের আঁধারে ক্যাম্প থেকে পালাচ্ছে। মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।

জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা ধরনের খেলাও শুরু হয়ে গেছে। অভিযোগ আছে, ত্রাণকাজে জড়িত বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়ার জন্য উসকানি দিচ্ছে। ভাসানচরে তাদের একটি অংশের অস্থায়ী পুনর্বাসনেও এরা বাধার সৃষ্টি করছে। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে, যত দিন যাবে রোহিঙ্গা সংকট ততই জটিল হতে থাকবে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান চীন সফরকালে গত বৃহস্পতিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খোয়াছিয়াং জানিয়েছেন, চীনও বিশ্বাস করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াটাই সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়। চীন চায়, দুই দেশ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করুক। মিয়ানমারকে সম্মত করাতে চীন চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন চীনা প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে এবং প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিও হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, চুক্তি সম্পাদনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও একজন রোহিঙ্গারও প্রত্যাবাসন হয়নি। এখানে মিয়ানমার সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি।

পুড়িয়ে দেওয়া বাড়িঘর ঠিক করা হয়নি। রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমার যেসব ছাউনিতে তুলতে চায়, রোহিঙ্গারা তাতে যেতে রাজি নয়। নাগরিকত্ব ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার ওপর কাজ করছে রোহিঙ্গাদের ফিরে না যাওয়ার জন্য দাতা সংস্থাগুলোর উসকানি। এ অবস্থায় মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে, তারা যেন রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার প্রদান করে। আর এ কাজটি চীনের পক্ষেই করা সম্ভব বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এর কারণ, মিয়ানমার বর্তমানে চীনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।

চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের যেমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, বাংলাদেশেরও একই রকম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই চীনকেই এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গেও গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নৈশভোজেও দুই নেতা অন্তরঙ্গ পরিবেশে আলাপ-আলোচনা করেছেন।

আমরা আশা করি, শেখ হাসিনার এই সফরের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ত্রিদেশীয় উদ্যোগ একটি কার্যকর মাত্রায় পৌঁছাবে। তার আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা যাতে কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসীচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে না পারে কিংবা মানবপাচারকারী চক্রের সহজ শিকারে পরিণত না হয়, সে ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com