১৯৬৭ সালটি মধ্যপ্রাচ্যের আরব বিশ্বের জন্য একটি কলঙ্কজনক রাজনৈতিক দুর্বলতার প্রতীকী সময়বিন্দু। নানা প্রসঙ্গে আলোচনায় ও লেখায় ঘটনাটি উদ্ধৃত। আর তা হলো মাত্র ছয় দিনের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ, যে যুদ্ধে অবিশ্বাস্য পরাজয় নাসেরের মিসর ও সিরিয়াসহ একাধিক আরব রাষ্ট্রের সম্মিলিত শক্তির। লজ্জাজনক পরাজয় ক্ষুদ্র শক্তিমান ইসরায়েল রাষ্ট্রের কাছে। যেমন যুদ্ধ কৌশলে, তেমনি অস্ত্রশক্তিতে এ পরাজয় নব্য আধুনিক আরব জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা গামাল-বিন আবদুন নাসেরের আদর্শিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান জাতিরাষ্ট্রগুলোর ওপর তার রাজনৈতিক প্রভাবেও ভাটা পড়ে।
সদ্য রাজতন্ত্রী শোষণ-পীড়ন থেকে মুক্ত জাতিরাষ্ট্র ইরাকে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সমাজতন্ত্রী করিম কাসেম নিহত হওয়ার পর বাথ সোশ্যালিস্টদের মধ্যেও বড় হয়ে ওঠে অন্তর্দ্বন্দ্ব। আসলে বিষয়টি ছিল ক্ষমতার লোভ, ক্ষমতার লড়াই, যেমন দেখা গেছে মুক্তিসংগ্রামের পর মুক্ত আলজেরিয়ায়। ইরাকে কাসেম হত্যার পর বাকি বাথ নেতাদের প্রধান স্লোগান : ‘নাসের আমাদের ভাই’, ইরাক-সিরিয়া-মিসর একই বৃন্তের ফুল। যেমন একদা ভারত-চীন মৈত্রীর ভিত্তিতে রাজপথে স্লোগান ‘হিন্দি-চীনি ভাই ভাই’। সে ভ্রাতৃত্ববাদী স্লোগানও টেকেনি। পরাজিত হয় জাতীয়তাবাদী স্বার্থনির্ভর রাজনীতির কাছে।
মিসর-সিরিয়া-ইরাক—রাষ্ট্রনৈতিক মিলন না ঘটলেও আদর্শিক রাজনীতির প্রতীকী বন্ধন অটুট ছিল নাসেরের শাসনকাল পর্যন্ত। তখন মিসরের আদর্শিক মিত্র সোভিয়েত ইউনিয়ন। একই সত্য ইরাক ও সিরিয়ার ক্ষেত্রে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা বাথ-সমাজতন্ত্রীদের আদর্শিক ও বাস্তবিক কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্বভাবতই এ তিন রাষ্ট্র হয়ে ওঠে ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চক্ষুশূল। পরে কর্নেল গাদ্দাফির হাতে মুক্ত লিবিয়া কমবেশি এই ব্লকে যুক্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ভিন্ন মতাদর্শের ভিন্নধর্মী রাষ্ট্রগ্রুপ গড়ে তোলে। হয়ে ওঠে মার্কিন প্রভুত্ববাদের চরম শত্রু। এটা সহ্য করবে কেন ক্ষমতার আভিজাত্যগর্বী যুক্তরাষ্ট্র?
নাসেরের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মিসরীয় রাজনীতির ভোল বদল ঘটতে দেরি হয়নি, এবং তা তাঁর শিষ্যদের হাত ধরেই। মিসর হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত রাষ্ট্র—আসোয়ান বাঁধ ও অন্যান্য উন্নয়ন বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে। এর পেছনের কারণ কিছুটা হলেও মিসরীয় সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্র, বিশেষত ধর্মীয় চেতনা কেন্দ্র করে। প্রকৃতপক্ষে ধর্মনিরপেক্ষ একক জাতিসত্তানির্ভর এক জাতিরাষ্ট্র গড়ে ওঠার পক্ষে অনেক অন্তরায় ছিল মিসরে। অন্যদিকে ইরাকে-সিরিয়ায় শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব। শেষোক্ত দ্বন্দ্বটি মুসলমান সমাজ, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে আরব ঐক্য বিনষ্ট করেছে চরমভাবে। শুধু তা-ই নয়, রাষ্ট্রিক যুদ্ধও ঘটিয়েছে এবং ঘটাচ্ছে। তা সত্ত্বেও পূর্বোক্ত চারের মধ্যে উল্লিখিত তিন রাষ্ট্রের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধিতায় চিড় ধরেনি, ধরেনি রুশ সমর্থনের ক্ষেত্রে।
দুই.
আর সে জন্যই ইঙ্গ-মার্কিন কূটচাতুর্যে ‘একে একে নিভিছে দেউটি’—সিরিয়া শেষ লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানত রুশি নেতা পুতিনের সার্বিক সমর্থনের জোরে। অথচ গত শতাব্দীর ষাটের দশক কী আশ্চর্য সম্ভাবনাময়ই না হয়ে উঠেছিল, যার সূচনা পঞ্চাশের দশকে উদার গণতন্ত্রী জাতীয়তাবাদ ও সমাজবাদের উত্থানে। বিশ্বজুড়ে পরাধীনতা ও স্বৈরশাসনবিরোধী মুক্তিসংগ্রামের সূচনা।
সে সময় রাজনৈতিক (সামাজিক নয়) মুক্তির টানে সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ‘আফ্রো-এশিয়া’ শব্দযুগল বিশেষ তাৎপর্যে চিহ্নিত হয়ে ওঠে। সে ধারায় কিছুটা হলেও সংগ্রামী চেতনার প্রকাশ দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক রাষ্ট্রে। কিন্তু ইঙ্গ-মার্কিন চাতুর্যে, সিআইএর দুর্বৃত্তপনায় তা ব্যাহত হয়, রক্তপাত অনেক, নিষ্ঠুরতা মাত্রাহীন। তবু উদার গণতন্ত্রী ও সমাজতন্ত্রী চেতনার বিচ্ছিন্ন ও মিশ্ররূপের প্রকাশ ঘটে একাধিক রাষ্ট্রে, কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী শক্তির নির্মম বিরোধিতায়। সময়টা একাধিক দশকে বিস্তৃত।
এ পরিপ্রেক্ষিতে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হলো পূর্বোক্ত গণতন্ত্রী সমাজতন্ত্রী আবহের মধ্যেই মুক্ত দেশগুলোতে শাসনব্যবস্থায় দেখা দিয়েছিল একনায়কি চরিত্র বা স্বৈরশাসন। ইরাক-সিরিয়ার বাথ-সমাজতন্ত্রীরা বিশেষ আদর্শিক ঘোষণা সত্ত্বেও উল্লিখিত দুষ্ট রাজনৈতিক চেতনা থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। গণতন্ত্রের নামে একনায়কি শাসনব্যবস্থার পত্তন। অথচ বাইরে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের তকমা আঁটা। সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা একমাত্র গুণগ্রাম।
জাতীয়তাবাদী চেতনায় আপাত আবেগ সত্ত্বেও এর গভীরতার দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক চাতুর্যে ও কূটকৌশলের ক্ষেত্রে দুর্বলতাই ছিল প্রধান। তাই মুক্তিচেতনার উর্বর দশকে এই আরব গণতন্ত্রীদের চরম পরাজয় ক্ষুদ্র ইসরায়েল রাষ্ট্রের সঙ্গে ছয় দিনের যুদ্ধে, সেই সঙ্গে ভূমি হারানোর লজ্জা। সব অর্জন ওলটপালট। তা ছাড়া সামাজিক অনৈক্য ও অন্তর্দ্বন্দ্ব, যা রাষ্ট্রশক্তিকে দুর্বল করেছে। আমি কিছুতেই ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের অভাবিত পরাজয় মেনে নিতে পারি না, পারেননি পূর্ববঙ্গীয় প্রগতিবাদী ছাত্রযুব সমাজ। তাদের একাংশে তখন ছিল নাসেরের প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের এক খ্যাপাটে ছাত্র তারবার্তা পাঠিয়ে নাসেরের সঙ্গে বাঙালি ছাত্রসমাজের একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন। এতটাই ছিল আরব-মুসলিম প্রীতি, গণতন্ত্রপ্রীতি ও সেই সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা। ষাটের দশক বাংলাদেশের জন্যও ছিল এক সংগ্রামের দশক, যেমন জাতীয়তাবাদী আবেগে, তেমনি সমাজতান্ত্রিক যুক্তিবাদে। সে সময় আফ্রো-এশিয়ার মুক্তিসংগ্রামের প্রতিও বাংলাদেশের ছাত্রযুবা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আদর্শিক প্রকট সমর্থন। আফ্রো-এশীয় সাহিত্যের সঙ্গে মেলবন্ধন ও পারস্পরিকতার প্রতি প্রগতিবাদীদের বিশেষ আগ্রহ ছিল লক্ষ করার মতো।
ষাটের দশকে পূর্ববঙ্গ যখন প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও নিম্নবর্গীয় বৈষম্য অবসান নিয়ে উচ্চকিত, সেই সময় মধ্যপ্রাচ্যের আরব গণতন্ত্রী ও প্রগতিবাদীদের পরাজয় সেখানকার রাজনীতির অবাঞ্ছিত মেরুকরণের ভিত তৈরি হতে যাচ্ছিল। একদিকে হতাশা, বিভাজন ও অনৈক্য—অনৈক্য ক্ষুদ্র ইস্যু নিয়ে, এমনকি ধর্মীয় তরিকা শিয়া-সুন্নি ভিন্নতা নিয়ে—অন্যদিকে রাজতন্ত্র-শেখতন্ত্রশাসিত রাজ্যগুলোর ইঙ্গ-মার্কিন নির্ভরশীলতা। দুয়ে মিলে রাজনৈতিক-রাষ্ট্রনৈতিক দুর্বলতা ছাড়া দ্বিমাত্রিক ধর্মীয় প্রভাব।
ইসরায়েলের কাছে এদের হার অস্ত্রশক্তিতে, কিন্তু প্রকৃত হার যথার্থ হার রাজনৈতিক-কূটনীতির ক্ষেত্রে। তাই নিজেদের মধ্যে বিভাজন প্রভুত্ব ও কর্তৃত্বের এবং শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বের। পেদ্রোশক্তির রাজনীতির ঐক্যে তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি ইঙ্গ-মার্কিন স্বার্থবাদী শক্তির মোকাবেলা করা ঐক্যবদ্ধভাবে। বরং সাম্রাজ্যবাদের উসকানিতে বিভাজিত হয়ে তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক লড়াইয়ে নেমেছে। ফলে অর্থব্যয়, রক্তক্ষয় ঘটেছে এন্তার। ইরাকি নেতা সাদ্দামের ইরান বা কুয়েত আক্রমণ ছিল চরম নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক। তার মাসুল দিতে হয়েছে উসকানিদাতাদের হাতে, ফাঁসির দড়িতে।
পেট্রো-সম্পদের এক নম্বর মালিক সৌদি আরবের কর্তৃত্বপরায়ণতা ও প্রভুত্ববাদ স্বভাবতই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদনির্ভর—পরস্পরের স্বার্থ রক্ষার টানে। তাই সার্বিক আরব স্বার্থ রক্ষিত হয়নি কোনো ক্ষেত্রে তেলসম্পদের কর্তৃত্ব সত্ত্বেও। উদ্ধার করা যায়নি ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে হারানো আরব ভূমি, যেমন সিরিয়ার ভূরাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ গোলান মালভূমি ও অন্যান্য অঞ্চল। ইসরায়েলি কূটনীতির কাছে, এমনকি শক্তির কাছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের আরব দুনিয়ার হার বিস্ময়কর হলেও যুক্তিতর্কের বাইরে নয়। তেমনি দুর্বোধ্য নয়, প্রতিবাদী নায়ক নাসেরের স্বদেশ মিসরের ইঙ্গ-মার্কিন-ইসরায়েলের কাছে নতজানু রাজনীতির প্রকাশ। ব্যক্তিস্বার্থ, দলীয় স্বার্থ ও দুর্নীতির কাছে আত্মসমর্পণের পরিণাম এমনই হয়ে থাকে। এসব অবশ্য নাসেরের মৃত্যুর পর।
তিন.
মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাজনীতিতে সক্রিয় একসময়কার সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কাটাগুলোকে কী চাতুর্যে ইঙ্গ-মার্কিন-ইসরায়েলি দুর্বুদ্ধি এক এক করে অনায়াসে তুলে ফেলেছে, ভাবতে গেলে সত্যি কষ্ট হয়। মিসর, ইরাক, লিবিয়া—একেকটি অগ্নিক্ষরা উদাহরণ। কোথায় গেল গাদ্দাফির এত প্রতাপ? বিচক্ষণতার অভাব এবং ইগোভিত্তিক রাজনীতির পরিণাম এমনই হয়ে থাকে। ইরাকের ঘটনা অবশ্য ভিন্ন। মিথ্যা অজুহাত, নীরব জাতিসংঘ, ইঙ্গ-মার্কিন-ন্যাটো বাহিনীর আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব ছিল না সাদ্দামের পক্ষে।
একই কোপে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ—কট্টরপন্থী সুন্নি ঘরানার যুদ্ধবাজ আল-কায়েদা, আইএস ইত্যাদির পেছনে ইঙ্গ-মার্কিন সমর্থন সিরিয়ার শাসক বাশারের পতন প্রায় নিশ্চিত করে। কিন্তু বাদ সাধেন পুতিন, তাই একটি অমানবিক, মৃত্যুক্ষুধার যুদ্ধ চলছে সিরিয়ায়, নারী-পুরুষ-শিশু মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। দেখা যাক ট্রাম্প কত দূর যেতে পারেন। কাজেই অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে নিয়োজিত বাশারের সিরিয়া ‘স্ট্র্যাটেজিক গোলান হাইট’ উদ্ধার করবে, এমন সম্ভাবনা দূর-অস্ত্। এ যুদ্ধে পেছন থেকে শক্তি জোগাচ্ছে ইসরায়েলি মৌলবাদ (জিওনিজম)। তাই যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলছে মানবতাকে দলিত পিষ্ট করে। কী করছে জাতিসংঘের শান্তিবাদ?
আমাদের এ লেখার পেছনে চিন্তায় ছিল ১৯৬৭ সালে হারানো আরব ভূমি উদ্ধার নিয়ে কিছু কথা বলা। কিন্তু আনুষঙ্গিক প্রসঙ্গই বড় হয়ে দাঁড়াল, যা রাজনৈতিক বিচারে কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। মূল কথাটি হলো আরব জাতীয়তাবাদের আধুনিক চেতনা নিয়ে অতিসামান্য কয়টি রাষ্ট্রের আবির্ভাব ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণামে। রক্ষণশীল ও কট্টর ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ ইসলামী রাজ্যগুলো (যেমন সৌদি আরব, কুয়েত) তাদের নিজ স্বার্থনির্ভর সাম্রাজ্যবাদ তোষণ অব্যাহত রেখে চলছে আধুনিকতা ও প্রগতিচেতনাকে দূরে সরিয়ে রেখে। বলা যায় সেসবের প্রবল বিরোধিতায়।
তাই রাজতন্ত্রী আরব রাজ্যগুলো আরব জাতীয়তাবাদ নিয়ে, সার্বিক আরব স্বার্থ নিয়ে থোড়াই মাথা ঘামায়। অন্যায় ইরাক আক্রমণে তারা টুঁ-শব্দটি করেনি, করেনি সিরিয়ার ক্ষেত্রেও। কারণ উল্লিখিত আরব জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রগুলো চেয়েছে রাজতন্ত্রের অবসান, আধুনিক আরব রাষ্ট্রের পত্তন। এ মূল দ্বন্দ্বও মধ্যপ্রাচ্যে এক রাজনৈতিক কাঁটা, যেমন ‘শিয়া-সুন্নি নিয়ে অন্ধ বিরোধিতা। স্বভাবতই এক আরব রাষ্ট্র অন্য এক আরব রাষ্ট্র ইয়েমেনে বোমাবর্ষণে অরুচি ছিল না সৌদি বাহিনীর কিংবা শিয়াশাসিত ইরান আক্রমণে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এ দুটি দ্বন্দ্ব এত প্রকট যে তাতে সার্বিক আরব স্বার্থ বিঘ্নিত, যাযাবর ফিলিস্তিনি আরবদের লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত জীবনের অবসান ঘটছে না। কয়েক দশক পার হয়ে গেল, তবু ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ হচ্ছে না। ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ চেষ্টা করছে যাতে এ দুটি দ্বন্দ্ব বজায় থাকে, সক্রিয় থাকে। তাতে তাদের স্বার্থ ভালোভাবে রক্ষিত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন আনতে দরকার একজন বিচক্ষণ, শক্তিমান কামাল আতাতুর্ক, যিনি আরব বিশ্বকে একটি মডেল গণতন্ত্রী, আধুনিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র উপহার দেবেন। এ জন্য মধ্যপ্রাচ্যকে কত দিন অপেক্ষা করতে হবে কে জানে? তা না হলে যতই আগ্রাসন ঘটুক, আরব দুনিয়া আপন স্বার্থেও এক হবে না। তবু এবার মে মাস উপলক্ষে আমাদের স্লোগান : ‘আগ্রাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে আরব-দুনিয়া এক হও’।
লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী
সূত্র: কালের কন্ঠ