ফরিদপুরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা


ফরিদপুরে কঠোর লকডাউনেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। হঠাৎ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত সোমবার থেকে ৭ দিনের কঠোর লকডাউন দেওয়া হয়েছে।

লকডাউন থাকা সত্ত্বেও গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ফরিদপুরে আরও ২১২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর সদরে ১২৮ জন,বোয়ালমারীতে ২৯ জন, সদরপুরে ১৪ জন, মধুখালীতে ১৩ জন,নগরকান্দায় ১০ জন, ভাঙ্গায় ৭ জন, আলফাডাঙ্গায় ৬ জন, সালথায় ৪ জন ও চরভদ্রাসন উপজেলায় ১ জন।

ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা: তানসিভ জুবায়ের এক ভিডিও বার্তায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডা. তানসিভ জুবায়ের জানান, বর্তমানে ফরিদপুরের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১৩৯ জনের মতো করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এছাড়া হোম আই সল্যুশনে রয়েছে ৮৮৭ জন রোগী। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ২৬ জন।ফরিদপুরের সিভিল সার্জন অফিস জানায়, ফরিদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বেসরকারি রেজওয়ান মোল্লা জেনারেল হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ফরিদপুরের অধিকাংশ মানুষই তেমন একটা স্বাস্থ্য বিধি মানছে না। তবে লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জেলা শহরে প্রবেশ পথের ২৩টি জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে জেলা পুলিশ।

লকডাউনের ব্যাপারে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জামাল পাশা বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করছে। বিনা কারণে কাউকে বের হতে দিচ্ছি না। এছাড়া, শহরের প্রতিটা প্রবেশমুখে ব্যারিকেড দিয়ে ও কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো একযোগে মাঠে কাজ করছে। সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। ফরিদপুরে করোনা বিস্তার রোধে ফরিদপুরসহ তিনটি পৌরসভায় লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এই বিধিনিষেধ পালন করার উপর নির্ভর করছে এই পরিস্থিতির কতটা উন্নতি বা অবনতি হবে।

তিনি আরও বলেন, লকডাউনের সময় কারও যদি কোনো প্রকার সাহায্যের দরকার হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে।


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com