জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআর দেশব্যাপী বন্যার্তদের জন্য ২.৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪ হাজার ৭৫০ টি ফ্যামিলি ট্যান্ট বা তাঁবু প্রদান করেছে। বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসি) কক্সবাজার ইউনিটের কাছে মঙ্গলবার এই তাঁবু হস্তান্তর করা হয়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সারা দেশের বন্যার্তদের জন্য ইউএনএইচসিআর এ তাঁবু হস্তান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজার ইউনিটের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের কাছে কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআর-এর হেড অফ অপারেশনস মারিন ডিন কাইদমচাই তাঁবুগুলো হস্তান্তর করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসি) এর মাধ্যমে সারা দেশের বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য প্রায় ৫ হাজার তাঁবু দিচ্ছে জানতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটি আমাদের ও দেশের জনগনের জন্য সুখবর।
কক্সবাজার দেশের অন্যতম একটি ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকা হিসাবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক এখানকার সম্ভাব্য ঘূর্ণিদুর্গতদের জন্য কিছু তাঁবু প্রদানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জবাবে ইউএনএইচসিআর-এর হেড অফ অপারেশনস মারিন তাতে সাড়া দিয়ে অবিলম্বে কক্সবাজারবাসীর জন্য আলাদাভাবে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, সারা দেশেই এমন মানুষ আছেন যাদের সাহায্য প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয়দের জন্য ইউএনএইচসিআরের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত কয়েক মাসে কভিড-১৯ মহামারির সময়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আইসিইউ নির্মাণ ও অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা পাওয়া গেছে।
অনুষ্ঠানে কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআর-এর হেড অফ অপারেশনস মারিন ডিন কাইদমচাই জানান, এবারের বন্যায় বাংলাদেশের কিছু কিছু এলাকা নিদারুণভাবে আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষ করে দেশের সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও রংপুরের প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ দুর্দশাগ্রস্ত, এর সঙ্গে সেখানকার প্রায় এক লাখ ৬৭ হাজার পরিবার সাময়িকভাবে গৃহহীন হয়েছে।
তিনি আরো জানান, উত্তরাঞ্চলের ২৬টি জেলায় প্রায় ২.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তাঁবু এসব এলাকার দুর্গত বাংলাদেশীর জন্য সহায়ক হবে।
ইউএনএইচসিআর-এর হেড অফ অপারেশনস মারিন ডিন কাইদমচাই আরো বলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মিলে আমরা কাজ করছি যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায়।