জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে না পারেএ জন্য রাশিয়া ও চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সোমবার (২৩ মার্চ) রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে আরাগচি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নতুন প্রস্তাব এনে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো, বিশেষ করে রাশিয়া ও চীন, এবং যারা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে পরিষদকে অপব্যবহার করতে না দেওয়া।
ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দেশটি অটল থাকবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন আরাগচি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর কোনো হামলার হুমকি যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার শামিল।
এ ধরনের হামলা হলে কঠোর জবাব দেবে ইরান বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর আগে, ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন, ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। তবে পরে তিনি সেই সময়সীমা থেকে সরে আসেন।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, গত দুই দিনে ইরানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিরসনে অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার পরিকল্পনা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, এই অঞ্চলের অস্থিরতা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবৈধ হামলার ফল।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, মস্কো আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনের শাসন বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র: প্রেস টিভি