আলফাডাঙ্গায় ঘাস ও ভুট্টা চাষে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বকেয়া বেতন-ভাতা, বোনাস ও ছুটির টাকাসহ ২৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা পরিশোধ এবং ঘাস ও ভুট্টা চাষে আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. নাসিরুজ্জামান। একই সঙ্গে পাওনা অর্থ আদায় ও নিজের নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা ডাকবাংলোসংলগ্ন এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাসিরুজ্জামান দাবি করেন, ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর মোহাম্মদীয়ার এমডি মো. ইমামুল হক জনির ফোন পেয়ে ঢাকায় গিয়ে তার প্রতিষ্ঠানে লজিস্টিক ইনচার্জ হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. ইউসুফ আলামিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ইউসুফ আলামিনের অনুরোধে তিনি তার গরুর খামারের দায়িত্বও নেন।

নাসিরুজ্জামানের ভাষ্য, শুরুতে মাসিক ৪৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করলেও পরবর্তীতে কাজের পরিধি বাড়ায় বেতন ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা করার আশ্বাস দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি চাকরির সময়ের বাইরে খামারের কাজের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাকে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইউসুফ আলামিনের অনুরোধে বিভিন্ন এলাকায় জমি লিজ নিয়ে ঘাস ও ভুট্টা চাষ শুরু করেন। এ কাজে জমির লিজ, শ্রমিক, বীজ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য খাতে তিনি বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। উৎপাদিত ঘাস ও ভুট্টা নির্ধারিত দামে নেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, বেতন বাবদ ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা, বোনাস ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ছুটির টাকা ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং অন্যান্য পাওনা ৯০ হাজার টাকাসব মিলিয়ে তার ২৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২১ একর, ২৫ একর, ৫ একর ৪০ শতাংশ, ১ একর, ৪ একর ও ৭ একর জমিতে ঘাস ও ভুট্টা চাষে জমির লিজ, শ্রমিক, বীজ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য খাতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করেন নাসিরুজ্জামান। তবে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও হিসাব যাচাইয়ের পর প্রকৃত ব্যয় ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

নাসিরুজ্জামানের আরও অভিযোগ, আদিয়াত ফার্মের পক্ষ থেকে উৎপাদিত ঘাস না নেওয়ায় জমি পরিষ্কারসহ অতিরিক্ত প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, পাওনা অর্থ পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ দেওয়া হলেও এর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নাসিরুজ্জামান তার বকেয়া পাওনা পরিশোধ, চাষাবাদে হওয়া আর্থিক ক্ষতির প্রতিকার এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com