আলোচিত সোনিয়ার পুত্র সন্তানের জম্মলাভ


অসহায় নির্যাতিত নারী সোনিয়ার পুত্র সন্তানের জম্মলাভ করেছে। শনিবার গভীর রাতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য রওনাহলে রাস্তার পথিমধ্যে রাত আনুমানিক ১টার দিকে পুত্রসন্তান জন্ম হয়। সন্তানের নাম রাখা হয়েছে মুহাম্মদ হামিম এলাহী গাজী। সোনিয়া বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার হাজরাকাটী গ্রামের অসহায় হতদরিদ্র সোনিয়ার গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে প্রতারক স্বামী ও তার পরিবার শুরু করে নানা কুট কৌশল। সমাজপতিদের কাছ থেকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে সোনিয়ার পিতার আত্মহত্যা করে। এদিকে প্রতারক স্বামী নাজমুল পুলিশের খাঁচায় বন্ধি হন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোনিয়া খাতুন পুত্র সন্তানের জম্মলাভের নেপথ্য কাহিনীতে জানান,হাজরাকাটি গ্রামের আবু সাঈদ গাজীর কন্যা সোনিয়া খাতুন( ১৯) এর সাথে একই গ্রামের মকবুল গাজীর ছেলে নাজমুল গাজী(২৩) এর প্রেমের সুত্রধরে বিবাহ হয়। স্বামী নাজমুল গাজী সোনিয়াকে বিবাহের কিছুদিন পর তালাক দিয়ে অন্যত্র বিবাহ করে।অত:পর বিবাহিত স্ত্রী ও পরিবারের সকলের অগচরে সোনিয়াকে পুনরায় বিবাহ করে। এক পর্যায়ে সোনিয়া গর্ববতী হলে লোকচক্ষুর অন্তরাল হতে ঘটনাটি সামনে আসে।

এসময় নাজমুল পুরা ঘটনা অস্বীকার করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পেটের বাচ্চা সন্তান নষ্ট করার জন্য বিশ হাজার টাকা দিতে চান নাজমুলের বাবা। কিন্তুু পেটের সন্তান নষ্ট করতে রাজী হয়নি এই হতভাগ্য নারী। পেটের বাচ্চা অস্বীকার করায় এলাকার সমাজপতিদের দারস্থ হলেও ন্যায়বিচার পায়নি অসহায় পরিবারটি। সেকারনে একপর্যায়ে হতভাগ্য নারীর পিতা আবু সাঈদগাজী ক্ষোভে দুঃখে একমাস পূর্বে আত্মহত্যা করে।

প্রাইভেট চালক দিপঙ্কর দাস জানান, হতদরিদ্র অসহায় সোনিয়ার গর্ভ যন্ত্রণা শুরু হলে জীবন বাঁচাতে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি,তালা সদরের সাবেক চেয়ারম্যান সাংবাদিক এসএম নজরুল ইসলামের সহযোগিতায় তার গাড়িতে করে শনিবার গভীর রাতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য রওনা হন। পথিমধ্যে গাড়িতে সোনিয়ার একটি পুত্র সন্তান জম্মগ্রহন করে। পরবর্তিতে তাকে সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

তালা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মেহেদী রাসেল জানান, তালা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সোনিয়া খাতুন মামলা দায়ের করেন। তালা-পাটকেলঘাটা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ হুমায়ুন কবির এবং তিনি নিজে আবু সাঈদ গাজীর আত্মহত্যার কারন অনুসন্ধান করেন। উল্লেখিত ঘটনা অবগত হয়। থানা পুলিশ আসামী নাজমুল গাজীকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে।


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com