আমতলীতে মনগড়া বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা


বরগুনার আমতলী পৌর শহরের ক্ষুদ্র ব্যবসাযী মো. হানিফ মিয়ার বাসায় প্রতিমাসের বিদ্যুত বিল আসতো ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। মার্চ মাসে করোনায় মহামারী দেখা দেওয়ায় বাসার লোকজন প্রায়াই গ্রামের বাড়ীতে থাকে। বাসা অধিকাংশ সময়ই খালি পড়ে থাকে।

জুন মাসের শুরুতে তিন মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২ হাজার টাকা। মো. হানিফ জানায়, সব মাসেই তার বিদ্যুৎ বিল ৩শ থেকে ৪শ টাকার মধ্যে থাকে। সে অনুযায়ী মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে তার বিদ্যুৎ বিল আসার কথা ৯ থেকে ১২শ টাকা। তিনি বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে আগামি মাস থেকে অতিরিক্ত টাকা সমন্বয় করে দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

ক্ষুদ্র ব্যবসাযী হাণিফ জানান, এক বছরে তার বিদ্যুৎ বিল আসে ৩৬শ থেকে ৪ হাজার টাকার মতো। বিদ্যুৎ বিভাগ তিন মাসে কিভাবে ২ হাজার টাকা বিল করলো তা বুঝে আসেনা। এটাতো বিদ্যুৎ বিভাগ কৌশল করে আমার থেকে এক বছরের অগ্রিম বিল আদায় করছে। এখন একসাথে ২ হাজার টাকা আমি কোথায় পাবো। মহামারীতে আয়ের সব পথ বন্ধ। এখন পর্যন্ত তিন মাসের বাসা ভাড়া বাকি। পরিবার নিয়ে দুমুঠো খেয়ে বাঁচাটাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। এমন অবস্থায় প্রকৃত বিল পরিশোধ করাটা কষ্ট সাধ্য।

শুধু মো. হানিফ মিয়া নয়। এমন অবস্থা আমতলীর প্রায় ৪০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের। পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতি লকডাউনের তিন মাসে কয়েক কোটি টাকার অতিরিক্ত বিল পরিশোধে গ্রাহকদের বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রাহকরা অভিযোগ জানালে এখন যা বিল পেয়েছেন তা পরিশোধ করুন; অফিসে আসুন সমন্বয় করে দেয়া হবে বলে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।

গ্রাহকরা জানান, করোনাকালে সবাই বাসায় অবস্থান করায় ২০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত বিল বেশি আসাটা স্বাভাবিক। গ্রাহকদের আগের বিলের তথ্য বিদ্যুৎ বিভাগের কাছেতো ছিলো। কিন্তুু তারা সেটা না দেখে গ্রাহকদেরকে বিপদে ফেলেছেন।

মো.নজরুল ইসলাম রাজা তালুকদার জানান, এখন মানুষের আয় রোজগার বন্ধ। মানুষ বাসা ভাড়া দোকান ভাড়া পরিশোধ করতে পারছে না। এমতাবস্থায় বিদ্যুৎ বিভাগের অমানবিক আচরণ। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিল নিয়ে ভাড়াটিয়া ও মালিক পক্ষের দ্বন্ধে অসহায় হয়ে মানুষ বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

আমতলীপল্লী বিদ্যুত অফিস থেকে জানায়, করোনা পরিস্থিতিতে মিটার না দেখে অনুমান করে বিল তৈরি করা হয়েছে। তাই কিছু মিটারে অতিরিক্ত বিল এসেছে। আমরা আগামি মাসগুলোতে তা সমন্বয় করে দেবো। বিদুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ থেকে বাঁচতে এখন সবাইকে বিল দিয়ে দিতে হবে। এছাড়া অন্য কোন পথ নেই।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আমতলীর সাবজোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসেন অতিরিক্ত বিলের বিষয়টি স্বীকার করে আগামিতে তা সমন্বয় করে দেয়ার আশ্বাস দেন। তবে এ মুহুর্তে গ্রাহকরা অগ্রিম বিলের টাকা কোথায় থেকে পরিশোধ করবেন তা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি।

বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com