শাহজাদপুরে যমুনার ভাঙ্গনে বিলীন ৫০০ বিঘা জমি


করোনার মধ্যে নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরবাসী। সাম্প্রতিক সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে শাহজাদপুরের নদী প্রবন এলাকা। পানির বৃদ্ধির সাথে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে নদী ভাঙ্গন। বিলীণ হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ ও ফসলি জমি। আতঙ্ক উৎকণ্ঠায় রয়েছে তীরের বাসিন্দারা।

যমুনা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙ্গন কবলিত গ্রামগুলো হল, উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের ভাটপাড়া নতুন বাজার, গুদিবাড়ি, জগতলা, ঠুটিয়া ও হাটপাচিল, জালালপুর ইউনিয়নের পাকুরতলা, ভেকা, বা ঐ খোলা, খুকনি ইউনিয়নের আরকান্দি ও ব্রাহ্মণগ্রাম, সোনাতুনি ইউনিয়নের ধীতপুর, শ্রীপুর, মাকড়া, সোনাতুনি, বড় চানতারা, বারপাখিয়া ও বানতিয়ার।

ওই সব গ্রামের অন্তত দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ, ৫০০ বিঘা আবাদি জমি ও দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ভাঙ্গন আতংক বিরাজ মধ্যে করছে।

এলাকাবাসী জানায়, বর্ষা মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। আর এই পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ভাটপাড়া এলাকার যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের পাঁচটি স্থানের অন্তত এক হাজার ফুট এলাকার সিসি ব্লক ও জিও টেক্সপেপার নদীগর্ভে ধসে গেছে।

ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড গত বছরের ভাঙ্গন এলাকা মেরামত না করায় এবং এ বছর এখনো ভাঙ্গন রোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় এই ভাঙ্গন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে বাড়িঘর ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে এখানকার মানুষেরা প্রতিদিন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

যমুনার ভাঙ্গন ভিটেমাটি ও আবাদি জমি হারিয়ে পগলপ্রায় আলমাস হোসেন বাংলাদেশজমিনকে বলেন, ভাঙ্গনের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না। আটবার বাড়ি ভেঙ্গেছে। প্রতিবারই সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েগেছি। আবারও যদি বাড়িঘর যমুনার পেটে চলে যায়, তবে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।

এ ব্যাপারে কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ জমিনকে বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় স্রোত তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে শাহজাদপুরের যমুনা নদীর তীর এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এ ভাঙ্গনের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না তীর সংরক্ষণ বাঁধ। এলাকাবাসী নিজেদের টাকায় বাঁশ-চাটাই কিনে ভাঙনরোধের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। এ ভাঙন রোধে অতিদ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে তারা অনুরোধ করেন।

এলাকাবাসী আরও জানায়, ভাঙ্গন রোধে ছয় বছর আগে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজাদপুরের কৈজুরী থেকে বেনুটিয়া পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় তীরসংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। চার বছর ধরে এ বাঁধে কোনো সংস্কার কাজ না করায় বাঁধের বিভিন্ন স্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওই সব দুর্বল স্থানে লিকেজ সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে নতুন করে ধস দেখা দিয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাংলাদেশ জমিনকে জানান, টাকার সংকুলান না থাকায় আপাতত বাঁধ রক্ষায় কাজ করা যাচ্ছে না। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।

বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com