শিবচরে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০


শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের দক্ষিন চরকামারকান্দি গ্রামে জমি-জমা ও মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার সন্ধার দিকে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের দক্ষিন চরকামারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধার পরে মসজিদে সরকারী ভাবে নির্ধারিত মুসল্লুি নিয়ে নামাজ পড়ার কথা নিয়েই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান।

আহতরা হলেন - জামাল ফকির, ইব্রাহীম, সামসু ফকির , মজিবর ফকির, মান্নান ফকির, রবিউল মোল্লা, রফিকুল মোল্লা, শরিফুল মাদবরসহ প্রায় ১৫ জন। এদের মধ্যে শরিফুল মাদবর এর অবস্থা গুরুতর থাকায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে স্থানন্তর করা হয়েছে। এছাড়া ৪/৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অপর গ্রুপের আহত সকলেই মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতরা হলো- জাকির হোসেন মাদবর, মোসলেম মাদবর, মোকসেদ মাদবর, হাবিব মাদবর, রিপন মাদবর, মিজান মাদবর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিন চরকামারকান্দি গ্রামে সিদ্দিক মাষ্টার ও হযরত মাদবর গংদের সহিত ফকির বংশের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। আজ রোববার সন্ধার দিকে মাদবর বাড়ির লোকজন তাদের বাড়ির সামনের মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

নবনির্মিত ঔই মসজিদের কমিটি নিয়ে পাশের বাড়ির ফকির বংশের লোকদের সাথে বিরোধ ছিল। করোনার ভাইরাস আতংকে তারাবি নামাজের জন্য সরকারের নির্ধারিত মুসল্লি নিয়ে ওই মসজিদে নামাজের ব্যবস্থা করা হলে পাশ্ববর্তী বাড়ির প্রতিপক্ষের লোকজন চরম আপত্তি করে। মুলত সেই সুত্র ধরেই অপর পক্ষের লোকজন অতর্কিত আজ সন্ধায় হামলা চালায়। এ সময় সিদ্দিক মাষ্টার, হরযত মাদবর, মোসলেম মাদবর, মোকসেদ মাদবর, বিল্লাল মাদবরসহ প্রায় ২০ জন তাৎক্ষনিক আহত হন।

এক পর্যায়ে সেখানে মসজিদে বসে থাকা লোকজনের উপর পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে তারাও আহত হন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কম হলেও প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুত্বর বলে আত্মীয় স্বজনরা জানিয়েছেন।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ইতমধ্য আহত ৮ জন ভর্তি হয়েছে। ৪/৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শরিফুল নামে গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে স্থানন্তর করা হয়েছে।

এঘটনায় শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ জমিনকে বলেন, মাগরিবের নামাজের সময় ঘটনা শুনে আমি পুলিশ পাঠাই। এখন এলাকা শান্ত রয়েছে। তবে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। নামাজ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সুত্রপাত বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি।


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com