প্রক্টর অফিস সিলগালার হুশিয়ারি দিয়ে প্রশাসনকে লালকার্ড শিক্ষার্থীদের

  • জবি সংবাদদাতা :
  • বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪ ০২:০৩:০০
  • কপি লিঙ্ক

অবন্তিকার মৃত্যুর ঘটনায় প্রক্টর অফিসকে সিলগালা করার হুশিয়ারি দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লালকার্ড দেখিয়েছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে শিক্ষার্থীদের প্রতীকী সমাবেশে এ হুশিয়ারি দেন তারা।

প্রতীকী সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি বহু অন্যায়ভাবে মুচলেকা নিয়েছে। এবার এই বডিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্ধীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা জমা দিতে হবে। সাত দিনের মধ্যে মুচলেকা না দিলে প্রক্টর অফিসের নামে যে টর্চার সেল তারা করে রেখেছে - সেখানে তালা ঝুলিয়ে দিব।

ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিরা মৌ বলেন, করোনার সময় কুকুরের খাবারের বরাদ্দকৃত টাকাও মেরে দিয়েছে এই প্রক্টরিয়াল বডি। নিপীড়ন বিরোধী সেলে শুধু কমিটি করে দিলেই হবে না৷ একজন আইনজীবীও নিয়োগ দিতে হবে। 

নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী কিশোর সাম্য বলেন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে হবে। এই প্রশাসন এখনো অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার করেনি।  তাহলে কিভাবে শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করবে যে এই প্রশাসন বিচার পক্রিয়া চালাচ্ছে? 

ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ সাকিব শোভান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর নিজে নিপীড়ক কার্যক্রম করেছেন এবং নিপীড়কদের অভয় দিয়ে গিয়েছেন। আমাদের প্রক্টরিয়াল নিরীহদের ধরে ধরে মুচলেকা সংগ্রহ করে। যে ছেলে সিগারেট খায় না, তার কাছে মুচলেকা নেওয়া হয়- আমি আর কখনো মাদক খাবো না।

এসময় শিক্ষার্থীরা জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো; আমার মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই ;অবিলম্বে ফাইরুজ হত্যা,  বিচার করো, করতে হবে এবং অবন্তিকা মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই- স্লোগান তোলেন।

গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে নিজের আত্মহত্যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকীকে দায়ী করেন অবন্তিকা। এর পর কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও পিসি পার্ক স্মরণিকা ভবনের দ্বিতীয়তলায় নিজ বাসায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম। মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম ব্যাচের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকীকে আসামি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য