কয়লাখনি এলাকায় জমি অধিগ্রহণের অর্থ প্রদানে বিলম্বসহ হয়রানীর প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

  • অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১ ০১:২৮:০০

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশপুকুর ও বৈদ্যনাথপুর গ্রামবাসী জমি অধিগ্রহণের অর্থ প্রদানে বিলম্বসহ হয়রানীর প্রতিবাদে সহস্রাধীক নারী ও পুরুষ ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের সংগঠন জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির ব্যানারে বড়পুকুরিয়া স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে দাবীর সমর্থনে বক্তব্য রাখেন জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা ইব্রাহিম খলিল, সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, রেজওয়ান হোসেন, রুহুল আমিন, বেলাল উদ্দিন, লুৎফর রহমান প্রমুখ।
    
মানববন্ধন চলাকালে জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা ইব্রাহিম খলিল বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের কারণে চারপাশের ৬০০ একরেরও বেশি জমি দেবে (ধসে) গেছে। ওই জমিগুলো বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। প্রথম দিকে ১৯০ কোটি টাকায় ৬৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। 
বর্তমানে অধিগ্রহণের বাহিরে নতুন করে খনি সংলগ্ন বাঁশপুকুর ও বৈদ্যনাথপুর দুইটি গ্রামের প্রায় ১৫ দশমিক ৫৮ একর জমি ডেবে (ধসে) গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ওই দুই গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। ফাটল ধরেছে ঘরবাড়ীতে। কুয়া, টিউবওয়েল ও পুকুরের পানি প্রতিনিয়ত ভূগর্ভে নেমে যাচ্ছে। 

ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় খনি কর্তৃপক্ষ ২০২০ সালের ১ মার্চ ৪ ধারায় ও ২৩ জুন ৭ ধারায় ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকদের জমি অধিগ্রহণের নোটিশ দেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়নি আজো। দেওয়া হয়নি ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণের অর্থ। যার কারণে গ্রামের বসবাসকারী পরিবারগুলো ঘর-বাড়ি ছেড়েও যেতে পারছেন না। আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। যেকোনো মুহুর্তে ঘরবাড়ী ডেবে (ধসে) পড়তে পারে। 

তিনি খনি কর্তৃপক্ষকে হুশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আগামীতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আন্দোলনের কারণে খনির উন্নয়ন ও উৎপাদন কাজ ব্যাহত হলে এর দায়দায়িত্ব খনি কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খানের ০১৩১৩৭০০৪৪০ নম্বরের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন কল দেওয়া হলে ফোনের রিংটন বাজলেও তিনি ফোনকলটি গ্রহণ না করায় তাঁর কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য