জয়ী হলো গণতন্ত্র-জয় হলো আমেরিকার

  • মোঃ নাসির, নিউ জার্সি, (আমেরিকা) প্রতিনিধি
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২০ ১১:২৪:০০
  • কপি লিঙ্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অবশেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে দেশটির ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। সেই সঙ্গে বাইডেনের রানিংমেট কমলা হ্যারিস নির্বাচিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট।

বাইডেন-কমলার নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জয় হলো আমেরিকার, জয়ী হলো গণতন্ত্র, জয় হলো মার্কিন নাগরিকদের।

অন্যদিকে ভুল প্রমাণিত হয়েছে দাম্ভিক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অঙ্ক আর সকল অপকৌশল। তিনি ভেবেছিলেন উগ্র জাতীয়তাবাদ তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। তাই আমেরিকাকে দুনিয়া থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করেছিলেন। হোয়াইট সুপ্রিমেসিকে উসকে দিয়ে বাজিমাত করতে চেয়েছিলেন। আমেরিকার রাজনীতির সব ট্র্যাডিশন উল্টে দিয়ে নিজের খেয়ালখুশিমতো কৌশল নিয়েছিলেন, যা কিনা রিপাবলিকানরাই পছন্দ করেননি। এর সমুচিত জবাব পেয়েছেন ট্রাম্প।

মার্কিন সমাজে ট্রাম্প প্রথম দিক থেকেই বিতর্কিত ছিলেন। তার নানা মন্তব্যে দুনিয়াব্যাপী অনেক কৌতুকেরও জন্ম হয়েছিল। নির্বাচনের ফলাফল মানবেন না, এটা নতুন কোনো কথা নয়। দুই সপ্তাহ আগে থেকেই বলে আসছিলেন, আদালতেই ফয়সালা হতে হবে। সুপ্রিম আদালতে একজন বিচারক নিয়োগ দেওয়ার পর উল্লাস করেছিলেন। বলেছিলেন, বাইডেনরা এবার যাবে কোথায়?

কিন্তু আদালত তো অন্ধ নয়। জনমতের বাইরে কি আদালত যাবে? অন্তত মার্কিন সমাজে। ভোটে কারচুপির কোনো প্রমাণ না দিয়ে জোর গলায় বললেই কি আদালত তার পক্ষে রায় দিয়ে দেবে? ভোটের ফল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেও ট্রাম্প ব্যর্থ হন। আদালত তার আরজিতে সায় দেয়নি।

তামাম দুনিয়ায় এই নির্বাচন নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে। কারণ কেউ ভাবেননি ট্রাম্প নির্বাচনী বক্তৃতায় যা-ই বলুন না কেন, ফলাফল নিয়ে কাল্পনিক কোনো দাবি করবেন। ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই তিনি নিজেকে জয়ী ঘোষণা করেন। অনেকে বলছেন, এটা এক ধরনের পাগলামি।

কেউ কেউ অবশ্য অন্য কথা বলছেন। তারা এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য খুঁজছেন। ট্রাম্প কি ট্যাক্সসহ নানা অনিয়মের পরিণতির কথা ভেবে দর-কষাকষি করছেন? তিনি নিশ্চিত জানেন, ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার কারণে তাকে জেলে পর্যন্ত যেতে হতে পারে। তাই নির্বাচনকে বিতর্কিত করে নিজের জন্য কোনো ফায়দা তুলতে চাচ্ছেন।

ফ্লোরিডায় জিতে গিয়ে ট্রাম্প ভেবেছিলেন আমেরিকার জনগণ তাকেই বেছে নিয়েছে। বারবার কি একই খেলা হয়? কারো সঙ্গে পরামর্শ না করে মিডিয়ার সামনে এসে বললেন, আমিই প্রেসিডেন্ট। মার্কিন জনগণ এতে লজ্জা পেলেও ট্রাম্প পাননি। ট্রাম্প উদ্ভট কথা বলতেই পছন্দ করেন বেশি। মার্কিন সমাজতত্ত্ববিদ অধ্যাপক নোয়াম চমস্কি ট্রাম্পকে ইতিহাসের অত্যন্ত খারাপ মানুষ বলে বর্ণনা করেছেন।

বাইডেনের জয়ের মধ্য দিয়ে আমেরিকায় উগ্র জাতীয়তাবাদ হেরেছে। এখন দেখা যাক, জো বাইডেন কী করেন? তার সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে বিভক্ত সমাজ, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের রেখে যাওয়া জঞ্জাল কীভাবে সামাল দেন, সারা বিশ্ব চেয়ে আছে সেদিকেই।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

মন্তব্য