www.bzamin24.com:: সত্যের সন্ধানে সারাক্ষণ

শিরোনাম:

সাত‌দিনে চল্লিশ নারীসহ ৭৬৭ জন

সৌদি আরব থেকে ফিরলেন আরও ১৩২ বাংলা‌দে‌শি


 বিজমিন২৪ ডেস্ক:  |  ৮ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ১২:১৫  | প্রবাসের খবর


নতুন বছরের শুরুতেও গত বছরের মতো সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশিদের ফেরা অব্যাহত আছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেশটি থেকে ফিরেছেন ৫ নারীসহ ১৩২ জন বাংলাদেশি। রাত ১১ টা ২০ মিনিটে ও রাত দেড়টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ ও এসভি ৮০২ দুটি বিমানযোগে তারা দেশে ফেরনে ১৩২ জন। এ নিয়ে গত সাত দিনে ৪০ নারীসহ ৭৬৭ বাংলাদেশি ফিরলেন।

ফেরত আসাদের মাঝে প্রবাসী কল্যাণ ডেক্সের সহযোগীতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ী পৌছানোর জন্য জরুরী সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া বিদেশ থেকে ফেরা মানুষদের কাউন্সিলিং ও আর্থিকভাবে পুনরেকত্রীকরণের কর্মসূচি নিয়েছে ব্র্যাক।

গতকাল ফেরত আসা নুর বেগম (৪০) জানান, ২০১৯ সনের এপ্রিল মাসে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সেখানে নিয়োগকর্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের সেইফ হোমে। তিনি বলেন ঠিকমত খাবার ও নিয়মিত বেতন দেওয়া হতো না। বেতন চাইতে গেলে তার উপর চালানো হতো নির্যাতন।

একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে একই সাথে ফিরেছেন যশোর জেলার খাদিজা বেগম, নারায়নগঞ্জের সেফালী বেগম, ঝিনাইদহের শিল্পি খাতুন ও ঢাকার সুবর্ণা বেগম।

১৬ দিন ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে থেকে দেশে ফেরা রাজবাড়ীর রউছ শেখ জানান, মাত্র এক বছর পূর্বে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কর্মস্থল থেকে রুমে ফেরার পথে পুলিশ আটক করলে তিনি আকামা প্রদান করেন পুলিশকে কিন্তু কিছুতেই সমাধান হয়নি, দায়িত্ব নেয়নি নিয়োগকর্তা সেকারনেই দেশে ফিরতে হলো রউছকে।

একই সাথে দেশে ফিরেছেন নোয়াখালীর ফারুক, কুমিল্লার সাইফুল,চট্রগ্রামের তাসলিম আরিফ, পাবনার জুয়েল শেখসহ ১৩২ বাংলাদেশি।

দেশে ফেরা অনেক যুবকের অভিযোগ, আকামা তৈরীর জন্য কফিলকে (নিয়োগকর্তা) টাকা প্রদান করলেও কফিল আকামা তৈরি করে দেয়নি। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর কফিলের সাথে যোগাযোগ করলেও গ্রেপ্তারকৃত কর্মীর দায়-দায়িত নিচ্ছে না। বরং কফিল প্রশাসনকে বলেন ক্রুশ (ভিসা বাতিল) দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিতে।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, নতুন বছরের শুরুতেই সাত দিনে ফিরলেন ৭৬৭ জন। এইভাবে ব্যর্থ হয়ে যারা ফিরছেন তাদের পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত। আর এভাবে যেন কাউকে প্রতারিত না হতে হয়, যে কাজে গিয়েছেন সেই কাজই যেন পান এবং খরচের টাকাটা তুলে ভাগ্য ফেরাতে পারেন সেটা নিশ্চিত তরতে হবে রাষ্ট্র ও দূতাবাসকে। এক্ষেত্রে রিক্রটিং এজেন্সিকেই সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।




 আরও খবর