www.bzamin24.com:: সত্যের সন্ধানে সারাক্ষণ

শিরোনাম:

গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা এমন অপরাধ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে


  বাংলারজমির ২৪ ডেস্ক:  |  ২৫ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৫:৪৭  | মতামত


দেশে মব কিলিং বা গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২ সাপ্তাহে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনিতে দুই নারীসহ অন্তত দশজন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া একই সময়ে ৯ জেলায় ভিক্ষুক ও প্রতিবন্ধীসহ অন্তত ১১ জনকে মারধর করা হয়েছে।

রোববারও নওগাঁয় অন্তত ৬ জনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ‘পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা’ লাগবে এ ধরনের গুজবের সূত্র ধরেই মূলত ‘ছেলে ধরা’ বা অপহরণকারী সন্দেহে গণপিটুনির সূত্রপাত।

প্রায় এক মাস ধরে এ ধরনের গুজবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘ছেলে ধরা’ সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। যদিও পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন ‘মানুষের মাথা’ লাগার বিষয়টিকে পুরোপুরি গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে; তারপরও ছেলে ধরা সন্দেহ ও গণপিটুনি থেমে নেই।

উদ্বেগের বিষয়, খোদ রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানকে ভর্তি করাতে যাওয়া এক নারীকে ‘ছেলে ধরা’ সন্দেহে গণপিটুনি দেয়া হয়। পরে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে ওই নারীকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত মানুষের তত্ত্বাবধানে যদি এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে, তবে আমাদের সমাজ কত কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও গুজবে বিশ্বাসী, তা চিন্তা করে শিউরে উঠতে হয়। কেবল যে বর্তমানে ‘ছেলে ধরা’ সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা ঘটছে তাই নয়, মাঝে মাঝেই চোর, ডাকাত ও ছিনতাইকারী সন্দেহে বা অন্যান্য কারণেও গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা ঘটে।

মূলত, আইনের প্রতি আস্থাহীনতা, গুজবে কান দেয়া এবং নৈতিক-সামাজিক অবক্ষয় থেকে মানুষ জীবিত আরেকজন মানুষকে পিটিয়ে হত্যার মতো জঘন্য কাজ করতে পারে। এ ধরনের হত্যার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাউকে দায়ী করতে না পারার সুযোগটি কাজে লাগায় অপরাধপ্রবণ লোকরা। এ অবস্থায় যে কোনো গুজবে কান দিয়ে গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা বন্ধ করার জন্য সচেতনতা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

অপরিচিত কোনো নারী-পুরুষকে কোনো কারণে সন্দেহ হলে তাকে আটকে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়াই সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব। এ বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া দরকার অবিলম্বে। এরই মধ্যে পুলিশ সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, গণপিটুনি ফৌজদারি অপরাধ। স্থানীয় থানা থেকে মাইকিংসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এ ব্যাধি নিরাময়ের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া দরকার।

সূত্র: যুগান্তর




 আরও খবর