www.bzamin24.com:: সত্যের সন্ধানে সারাক্ষণ

শিরোনাম:

সালথা'য় জমির মালিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ


 আবু নাসের হুসাইন:  |  ১৪ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার, ১২:২৮  | সারা জমিন


ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সালথা সদর বাজারের পাশে উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে রোডস এন্ড হাইওয়ের (সড়কও জনপথ) বাইপাশ সড়ক নির্মানের জন্য প্রায় একশত পারিবারের জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকরা জমির মূল্য বাবদ কোন টাকা পায়নি।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের সড়ক নির্মানের কাজ প্রায় সম্পুর্ন করার পথে। জমির মালিকগন অফিস আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অতিষ্ট হয়ে, আজ সোমবার সকাল ১১ টায় ফের নির্মানাধীন ও রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকগন আবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাসিব সরকারের মাধ্যমে জেলা প্রসাশক বরাবর জমির ফসলের ক্ষতিপূরন ও জমির মূল্য বাবদ টাকার দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে গত ৪ জানুয়ারী (শনিবার) সকালে উক্ত জমির মালিকগন ক্ষতি পুরনের দাবি করে ঘটনা স্থলে গিয়ে ওই রাস্তার নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়। তারা তাদের জমির টাকা পাওয়ার জন্য ওই নির্মানাধীন রাস্তার উপর মানববন্ধনও করেন।

ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, গত প্রায় এক বছর ধরে আমাদের জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। অধিগ্রহণ করার পরই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ফরিদপুরের সাইদ কনস্ট্রাশন রাস্তা নির্মান কাজ শুরু করে দেয়। যখন কাজ শরু করে তখন জমিতে পাট বীজ বপন করা ছিলো ক্ষেত ভরা পাট গাছ নষ্ট করে তারা রাস্তা নির্মান কাজ শুরু করে। তখন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল যে তারা এই পাটের ক্ষতি পুরন দেবে। এরপর ধান বপনের মৌসুম চলে গেল, আবার পিয়াজের মৌসুম এসেছে আমরা এর কোন ক্ষতি পূরন পাইনি। আমরা সাধারণ কৃষক বছরের তিনটা ফসল আমাদের ঘরে তুলতে পারি নাই। এদিকে জমির একটি টাকাও পাচ্ছি না। আমাদের জীবন চলার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাই আমরা বাধ্য হয়ে আজ রাস্তা নির্মানের কাজ বন্ধ করতে এসেছি। আমরা যেন অতি দ্রুত আমাদের ক্ষতি পূরণ সহ আমাদের জমির টাকা পাই সেজন্য প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্থ্য জমির মালিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মোঃ মামুনর শরীদ, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, হেলাল মিয়া, আবু তালেব মল্লিক,আবুল বাসারসহ অনেকে। জানা গেছে, সালথা উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে বাইপাশ সড়ক নির্মানের জন্য প্রায় ৬ একর ৬ শতাংশ ফসলি জমি অধিগ্রহণ করে রোডস এন্ড হাইওয়ে (সড়ক ও জনপথ) এর মূল্য ধরা হয়েছে (প্রায়) ৩৬ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা। কিন্তু এর একটি টাকাও পায়নি ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকগন।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাইদ কনস্ট্রকশন এর মালিক সাইদুর রহমান বলেন, আমি ওই বাইপাস সড়ক নির্মানের কাজ পেয়েছি সংশ্লিস্ট দপ্তরের ওয়ার্ক ওর্ডারের ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আর অধিগ্রহন করা জমির মালিকদের টাকা দিবে বাংলাদেশ সরকার। আর ফসলের ক্ষতিপূরন বাবদ আমার ওয়াদা মোতাবেক যার যার জমিতে ফসল ছিলো আমি তাদের কমবেশি ক্ষতিপূরন দিয়েছি।

এখন জমির মালিকগন তাদের জমির টাকা জন্য কাজ বন্ধ করে দিয়েছে আমিও তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আমিও নির্মান কাজ বন্ধ রাখবো। সরকার তাদের টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার পর পূনরায় কাজ চালু করবো। জমির মালিকগন ফসলের ক্ষতিপুরন বাবদ সুনিদৃষ্ট কোন ব্যক্তির নিকট টাকা দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে তিনি বলেন, আমি সব জমির মালিকদের চিনি না। তাই একজনের নিকট টাকা দিয়েছি সে জিম্মা হয়ে সকলকে দিবে বলে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময়সীমা রয়েছে জমির টাকা পাওয়ার এরপর যদি মালিকগন এই বিক্ষোভ করতো সেটা রাইট ছিলো। কিন্তু এখনও তাদের বিক্ষোভ বা মানববন্ধনের কিছু নাই। সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকগণ বিক্ষোভের পর আমার নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে, আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে স্মারকলিপিটি পাঠিয়ে দিব।




 আরও খবর