ইরান গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী, তবে প্রকাশ্যে তা স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছেএমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেশনাল কমিটির বার্ষিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, তারা আলোচনা করছে এবং চুক্তি করতে চায়। কিন্তু নিজেদের লোকজনের ভয়ে তা প্রকাশ করতে পারছে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকেও ভয় পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে কেউই আগ্রহী নয়।
আমাকে পর্যন্ত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হতে। আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি, বলেন তিনি।
চলমান সংঘাতকে যুদ্ধ না বলে সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তার ভাষায়, আমরা এক ধরনের সামরিক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ক্যানসার আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই ক্যানসার অপসারণ করতেই আমাদের এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। আমরা সেটি প্রায় শেষ করে ফেলেছি।
এদিকে, সাম্প্রতিক এক হামলার বর্ণনা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্র সবগুলোই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা সামরিক প্রযুক্তি রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ২৯০ জন আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি