মধ্য প্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে শুরু হয়েছে তেল সঙ্কট, সেই প্রভাব পড়েছে ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার মত অজপাড়া গাঁয়েও। জ্বালানী তেল আসার খবর পেয়েই সদরপুর ফিলিং স্টেশনে ভিড় করতে শুরু করে ট্রাক্টর, ট্রাক, বাস, প্রাইভেট কার, ব্যক্তিগত মোটর বাইকসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। সময় গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চাপ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে জ্বালানী তেল বিতরণে পুলিশের সহায়তা নিতে বাধ্য হয় ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৮টায় ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার সদরপুর ফিলিং স্টেশনে এমনই চিত্র দেখা যায়। আলম নামের জনৈক প্রাইভেট কার মালিক জানান, দুঘন্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, ভিড়ের কারণে তেল নিতে বিলম্ব হচ্ছে। ট্রাক্টর চালক মতি মিয়া জানান, সেচ কাজের জন্য তেল নিতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রায়হান নামের মোটরবাইক চালক বলেন, অনেকক্ষণ ধরে লাইনে আছি। বাইকে মাত্র ৩০০ টাকার তেল দিচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনের স্টাফ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মোটরবাইকের প্রচন্ড ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। বিকেল ৩টায় তেল আনলোড হয়, রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মোটরবাইকে তেল দেয়া হয়েছে। যতই সময় গড়াচ্ছে ততই চাপ বাড়ছে। একই মোটরসাইকে ৩ থেকে ৪ বার তেল নিয়েছে। তাদের কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না।
সদরপুর ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঈদের দিন দুপুর থেকে পেট্রল অকটেন বন্ধ, ডিজেল কিছুটা ছিল যাত্রীবাহী গাড়ি ও সেচ কাজের জন্য দিয়েছি। দুদিন পর আজ আমাকে ২ হাজার পেট্রল, ৩ হাজার ডিজেল ও ৩ হাজার অকটেন দিয়েছে। আগামীকাল আমি তেল পাব না।
এরই মধ্যে হাজার হাজার মোটরবাইক এসে ভিড় করেছে। যতক্ষণ তেল থাকবে, দিয়ে যাব। তারপর স্টেশন বন্ধ রাখতে হবে। ফিলিং স্টেশন ও স্টাফদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছি।