টিসিবির পণ্য কিনতে গাদাগাদি, ইউএনওর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ 


করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক মানুষ। আয়-রোজগার নেই। সঞ্চয়ও শেষের পথে। টানাপড়েন চলছে সংসারে। তাই কম খরচে টিসিবির পণ্য কিনতে ভিড় বাড়ছে স্বল্প আয়ের মানুষের। তবে এসব পণ্য কিনতে আসা মানুষগুলো সামাজিক দূরত্ব না মানায় বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।

দিনাজপুরের বিরামপুরে ন্যায্যমূল্যে দুইজন ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে টিসিবির পণ্য। যার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে- সয়াবিন তেল, ছোলা, চিনি, খেঁজুর ও মসুর ডাল। কমদামে এসব পণ্য কিনতে দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের আগ্রহ বেশি। তাই সকাল থেকেই গাদাগাদি করে লাইন ধরে পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। কেউই মানছেন না নিরাপদ দূরত্ব। অনেকেই আবার লাইন না মেনেই হুড়োহুড়ি করে পণ্য কিনতে এগিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে টিসিবির পণ্য বিক্রিতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্রেতাদের মধ্য যেমন সচেতনতা নেই, তেমনি যারা পণ্য বিক্রি করছেন তাদের মধ্যেও সচেতনতার অভাব রয়েছে।

রবিবার (৩ মে) সকালে বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে টিসিবির পণ্য বিক্রয়স্থলে গিয়ে দেখা গেছে, টিসিবির পণ্য ঘিরে অন্তত কয়েক শতাধিক মানুষের ভীড়। ক্রেতাদের মধ্যে পণ্য কেনার প্রতিযোগিতা। অন্যদিকে রোজা থেকে তীব্র রোদে লম্বা লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফলে তাদের মধ্যে ঘটছে ধৈর্য্যচ্যুতি। আবার লম্বা লাইনের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকলে মাল পাবেন না, এমন আশঙ্কায় অনেকে ঠেলাঠেলি করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে এক পর্যায়ে ভেঙে যায় লাইন। সৃষ্টি হয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুর রহমান কে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি তাৎক্ষণিক সেখানে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে দেন। মূহুর্তের মধ্যেই হাজির হন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পেট্রোল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. আবু আহাদ হিমেলের নেতৃত্বে কিছু সময়ের ব্যবধানে ক্রেতাদের নির্দিষ্ট দূরত্বে সারি সারি লাইন করিয়ে পুনরায় সুষ্ঠুভাবে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হয়। সুষ্ঠুভাবে লাইন ধরে পণ্য কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও। এসময় প্রতিটি টিসিবির পণ্য বিক্রির সময় সেনাবাহিনীর উপস্থিত থাকার দাবী জানান ক্রেতারা।

বাংলাদেশ জমিন/ সংবাদটি শেয়ার করুন


Copyright (c) 2019-2026 bzamin24.com